গণপিটুনিতে হত্যা

37

এমন ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুরতা থামাতে হবে
গুজব সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির এক মোক্ষম হাতিয়ার। পদ্মা সেতু নির্মাণে মাথা লাগবে এমন গুজব ছড়িয়ে সারাদেশে এখন অস্থির ও ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই ইস্যু সামনে রেখে ছেলেধারা সন্দেহে গণপিটুনিতে মানুষ হত্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ৯ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত গণপিটুনিতে মারা গেছেন ১১ জন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এমন বাস্তবতায় গণপিটুনির ঘটনা ঠেকাতে সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে পুলিশ। ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে যাতে কেউ পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে না পারে, সে লক্ষ্যে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে বার্তা পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। আমরাও চাই দ্রুত এমন ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুরতার অবসান হোক। কয়েক দিন ধরে ছেলেধরা সন্দেহে দেশে গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। কী শহর কী গ্রাম সবখানে আইন হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা বাড়ছে ন্যক্কারজনকভাবে। পদ্মা সেতুতে শিশুর কাটা মাথা লাগবে- এই কথা কি কোনো আধুনিক শিক্ষিত মানুষ বিশ্বাস করতে পারে? ছেলেধরা সন্দেহে খোদ রাজধানী ঢাকার একটি স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করতে যাওয়া একজন মাকে কীভাবে পিটিয়ে হত্যা করা যায়? নিজের মেয়েকে আদর করার সময় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের একটি স্কুলে কীভাবে পিটিয়ে হত্যা করা যায় একজন বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী বাবাকে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমন কুসংস্কারে আবদ্ধ হয়ে থাকলে শিক্ষার আলো কীভাবে ছড়াবে। সন্দেহভাজন হলে এ ক্ষেত্রে অপরাধীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করার নিয়ম। পিটিয়ে হত্যা আইনের পরিপন্থী ও একটি গণতান্ত্রিক সমাজে মোটেও কাম্য নয়। গত সোমবার সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে গুজব মোকাবেলায় ৯৯৯-এ ফোন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে দেশবাসীর প্রতি। এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি এলাকায় ছেলেধরা গুজবে কান না দিতে এবং পুলিশকে সঙ্গে সঙ্গে তা জানানো; মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও পোস্টারিংও করতে হবে। এলাকার জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, সুধী সমাজ, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে উঠান বৈঠক করে ছেলেধরা গুজব রোধে সচেতনতা বাড়াতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দের জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে ভয়-ভীতি কাজ করছে। এ ছাড়া বিচারহীনতার সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি অনাস্থা ও হতাশা তৈরি করেছে। আমরা এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। সরকারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। কেবলমাত্র সন্দেহ, গুজব আর গণপিটিুনিতে এমন বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- আমরা আর দেখতে চাই না।