খোদাবক্স শাহ সম্প্রদায়-সম্প্রীতির দর্শন রেখে গেছেন

190

আলমডাঙ্গায় সাধুসংঘ ও লোকজ বাউল মেলা অনুষ্ঠানে ড. সাইমন জাকারিয়া
সমীকরণ প্রতিবেদক:
একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সাধক খোদাবক্স শাহের ৩০তম ওফাত দিবস উপলক্ষে আলমডাঙ্গা উপজেলার জাহাপুরে মরমী কবির আখড়াবাড়িতে সাধুসংঘ ও লোকজ বাউল মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আখড়াবাড়িতে অবস্থিত খোদাবক্স শাহের সমাধি চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এরপর সেখানে কবির ভক্ত-অনুসারীরা তাঁর জীবনী নিয়ে আলোচনা ও রচিত গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, কুষ্টিয়াসহ সারা দেশ থেকে অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীরা এ স্মরণোৎসবে অংশ নেন।
উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সহকারী পরিচালক ড. সাইমন জাকারিয়া, জেলা পরিষদের সদস্য এবং রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সাহান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন ও প্রকাশনা সংস্থার পরিচালক আবু তাহের, চট্টগ্রাম বিশ্বাবিদ্যালয়ের সমাজতত্ব বিভাগের শিক্ষক ড. হানিফ মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোস্তফা খান ও শহীদ খান। ভক্তদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মিলন শাহ, অন্তর সরকার, গঞ্জের শাহ, রেখা পারভীন ও আব্দুল লতিফ শাহ।
বাংলা একাডেমির সহকারী পরিচালক ড. সাইমন জাকারিয়া বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে বহির্বিশ্বে পরিচয় দিতে গেলে লালন শাহের নাম প্রথমেই আসে। তিনি সম্প্রদায়-সম্প্রীতির দর্শন রেখে গেছেন। লালন শাহের শিষ্যর মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন খোদা বক্স শাহ। লালনের পরবর্তীতে খোদাবক্স শাহ ৯৫০টি গান রচনা করেছিলেন। গানগুলো এখনও প্রকাশিত হয়নি। আমরা কাজ করছি। ৯৫০টি গান ফরিদপুরের আজমল শাহ, গঞ্জের শাহ, আমান শাহ ও তাঁর ছেলে লতিফ শাহ গানগুলো করে থাকেন। খোদাবক্স স্বকণ্ঠে গাননি। বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতার খোদা বক্সের গানগুলো রেকর্ড করে প্রচার করলে প্রচার বাড়বে। খোদাবক্স শাহ শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন এবং বাংলা একাডেমির একুশে পদকে ভূষিত হন। তাঁর গানগুলো যদি রেকর্ডিং করা যায়, সেটা ভালো কাজ হতে পারে।’
খোদাবক্সের ছেলে আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, জাপান ও নরওয়ে থেকে মেহমানরা এসেছেন। দেশের প্রখ্যাত কবি সমুদ্রগুপ্ত, রাহাত খান ও শামসুর রহমান এসেছেন। ২১ শে পদকপ্রাপ্ত খোদাবক্স শাহ বিষয়ে মিডিয়ায় প্রচারণার কারণে এখন বিশ্বব্যাপী মানুষ জানতে পারছেন।