খাদ্য-পুষ্টি সংকট কার্যকর পদক্ষেপ নিন

45

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে পুরো বিশ্বই বিপর্যস্ত। দেশেও বাড়ছে করোনার সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যদি খাদ্য ও পুষ্টি সংকটের সৃষ্টি হয় তবে তা কতটা উদ্বেগের বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, করোনাভাইরাস মহামারিকালে দেশের গরিব মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ দেখেছে, এই জনগোষ্ঠীর ৮৭ শতাংশই খাদ্য ও পুষ্টির সংকটে রয়েছে। ‘দরিদ্র মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির উপর কোভিড-১৯ এর প্রভাব’ শীর্ষক এই জরিপে ৯৮ শতাংশ গরিব মানুষের জীবন-যাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিত্রও উঠে এসেছে। আমরা বলতে চাই, সার্বিক এই পরিস্থিতি আমলে নিয়ে যত দ্রম্নত সম্ভব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। বলা দরকার, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনের কারণে বেশ কয়েক মাস গরিব মানুষের রোজগারের পথ বন্ধ ছিল। বিধিনিষেধ শিথিলে সীমিত পরিসরে কাজ চললেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষের সংকট কাটেনি। আর তাদের নিয়ে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের জন্য জরিপটি পরিচালনা করেন বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ। বৃহস্পতিবার সকালে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের ভার্চুয়াল এক আলোচনা সভায় তিনি জরিপের গবেষণাপত্রটি উপস্থাপনা করেন। জানা যাচ্ছে, এই জরিপে দেশের ৮টি বিভাগের ৩৭টি জেলায় দৈবচয়ন পদ্ধতিতে, নির্দিষ্ট প্রশ্নমালার ভিত্তিতে অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ৮৩৪ জন উত্তরদাতার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যেখানে নগর ও গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া উত্তরদাতাদের মধ্যে রিকশা ও ভ্যানচালক, স্কুটার ও ট্যাক্সি ড্রাইভার, পরিবহণ শ্রমিক, ছোট দোকানদার, ফেরিওয়ালা, নাপিত, বিউটিপার্লারের কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, খন্ডকালীন গৃহকর্মী, ইটকল শ্রমিকসহ নানা পেশার মানুষ ছিলেন। যাদের বেশির ভাগই দিন এনে দিন খেয়ে বেঁচে থাকেন। এ ছাড়া ভিখারি, পথশিশু, প্রতিবন্ধী যারা প্রকৃত অর্থে বেকার, এমন উত্তরদাতাও ছিলেন। জরিপ অনুযায়ী, দেশব্যাপী লকডাউন চলাকালে ৯৮ দশমিক ৩ শতাংশ দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৮৭ শতাংশ দরিদ্র মানুষ পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রাপ্তির সমস্যায় পড়েছেন। আমরা বলতে চাই, বর্তমান বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। কেননা করোনার কারণে মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। এরই মধ্যে যখন খাদ্য ও পুষ্টি সংকটের বিষয় আসছে তখন এটি আমলে নেওয়ার বিকল্প নেই। মনে রাখা দরকার, জরিপে এমন বিষয়ও উঠে এসেছে, দরিদ্র পরিবারগুলোর পাঁচ শতাংশই দিনে মাত্র একবেলা খেয়েছেন। অথচ মহামারি শুরুর আগে উত্তরদাতাদের ৯১.৬ শতাংশ দিনে তিন বেলা এবং বাকিরা দু’বেলা খাবার খেতে পারতেন। এ ছাড়া সব বিভাগেই দরিদ্র লোকেরা পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবারের তীব্র অভাবে ভুগছিলেন, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে এমনটিও জানা যাচ্ছে। আমরা মনে করি, সার্বিক এই পরিস্থিতি আমলে নিয়ে করনীয় নির্ধারণ সাপেক্ষে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। তুলনামূলকভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেটে খাবারের ঘাটতি বেশি ছিল বলে জরিপে দেখা গেছে। আর রংপুর অঞ্চলের দরিদ্ররা খাদ্য সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুষ্টিকর খাদ্য সংকটে বেশি প্রভাব পড়েছে রাজশাহী অঞ্চলে। ফলে এই অঞ্চলগুলোকে আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, এর আগে করোনার কারণে বিশ্ব দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে আছে এমন বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। মানুষ অভাবে পেশা পরিবর্তন করছে, আয়ের ক্ষতি হয়েছে, এসব বিষয়ও আমলে নিতে হবে। কারণ বেশির ভাগেরই ন্যূনতম সঞ্চয় না থাকায়, আয়ের এ সংকটকালে তাদের খাদ্য গ্রহণ এবং পুষ্টির অবস্থার ওপর বাড়তি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিশ্চিত করুক এমনটি কাম্য।