প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিসিএস : শিক্ষার মান বাড়াতে অবদান রাখবে

420

বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও যারা ক্যাডার পাননি তাদের মধ্য থেকে ৮৯৮ জনকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি নিঃসন্দেহে সময়োচিত এবং প্রশংসার দাবিদার। স্মর্তব্য, ৩৪তম বিসিএসের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ৬ হাজার ৫৮৪ জন উত্তীর্ণ হন। তাদের মধ্য থেকে দুই হাজার ১৫৯ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ করা হয় সরকারি কর্মকমিশনের পক্ষ থেকে। বিসিএসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় যে কারোরই উত্তীর্ণ হওয়া এক বড় সাফল্যের ব্যাপার। তবে এ সাফল্যের পরও অনেককেই ভুগতে হয় হতাশায়। বিসিএস পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হন তাদের এক-তৃতীয়াংশকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকিদের থাকতে হয় অপেক্ষার তালিকায়। এ অপেক্ষার শেষ কবে তাও সংশ্লিষ্টদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ বিড়ম্বনার অবসানে চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও যারা ক্যাডার পান না, তাদের মধ্য থেকে প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় ৩১তম বিসিএস থেকে। বিসিএসে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে যারা ক্যাডার পাননি তাদের মধ্য থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিতে ২০১৪ সালের ১৬ জুন নন-ক্যাডার পদের নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করা হয়। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে এর আগে কয়েকশ প্রার্থীকে প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ৩৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত ৩৪তম বিসিএস থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা পদে লোক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিসিএসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও যারা ক্যাডার পাননি তাদের মধ্য থেকে যারা প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ পেতে চান তাদের আলাদাভাবে কমিশনে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। এসব আবেদনকারীর মধ্য থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিসিএস উত্তীর্ণদের নিয়োগ লাভ আংশিকভাবে হলেও প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে অবদান রাখবে।  এ পদটিতে এতকাল যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের যোগ্যতা ছিল বহু ক্ষেত্রেই প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়।  আমরা আশা করব শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নয়, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বিসিএসে উত্তীর্ণদের নিয়োগের বিষয়ে ভাবা হবে।