ক্ষতিগ্রস্ত চিনিকলগুলো বন্ধ না করে আধুনিকায়ন করার আহ্বান

29

দেশের রাষ্ট্রায়াত্ব চিনিকলসমূহ বন্ধের সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে ফটক সভায় বক্তারা
দর্শনা অফিস:
শ্রমিক ঐক্য জিন্দাবাদ ‘যার যার দল তার তার, শ্রমিক স্বার্থে এক কাতার’ এ স্লোগানে দর্শনা কেরুতে দেশের রাষ্ট্রায়াত্ব চিনিকলসমূহ বন্ধের সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে ফটক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কেরুজ কেইন কেরিয়ার প্রাঙ্গনে কেরুর শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের আয়োজনে এ ফটক সভা অনুষ্ঠিত হয়। কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি তৈয়ব আলীর সভাপতিত্বে ফটক সভায় উপস্থিত থেকে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন বাংলাদেশ চিনিকল ফেডারেশনের সভাপতি, কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম প্রিন্স, শ্রমিক নেতা ফিরোজ আহম্মেদ সবুজ, সহসাধারণ সম্পাদক খবির উদ্দিন, সাবেক সহসভাপতি ফারুক আহম্মেদ, ইসমাইল হোসেন ও আবু সাঈদ।
এ সময় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সচল করা ও শিল্প কলকারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের সরকারি সুবিধা প্রদানের লক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের চিনিকলগুলোকে রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেন। সেই থেকে বিভিন্ন সরকারের সময় এক শ্রেণির কুচক্রি মহল দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আজ চিনিশিল্প ধংসের দ্বারপ্রান্তে। তারপরও এসব চিনিকলগুলোর সঙ্গে দুমুঠো ভাতের সম্পৃক্ততা রয়েছে দেশের একটি বড় সংখ্যক শ্রমিক সমাজ, কর্মচারী, কর্মকর্তা। যে যে এলাকায় এ চিনিকলগুলো অবস্থিত, সেসব এলাকার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আখচাষিরা এ শিল্প কলকারখানাগুলোর ওপর নির্ভরশীল। তাছাড়া রাষ্ট্রায়াত্ব শিল্পকলকারখানা বন্ধ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হবে। তাই সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান মুজিববর্ষে দেশের রাষ্ট্রায়াত্ব চিনিকলসমূহ বন্ধের সরকারি এ পরিকল্পনার দুঃসংবাদ তাঁরা আশা করেনি। বন্ধের পরিকল্পনা না করে এ ক্ষতিগ্রস্ত চিনিকলগুলো চালু রেখে আধুনিকায়নের মাধ্যমে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় বক্তারা।
কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থাপনায় ফটক সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য আকরাম হোসেন, মফিজুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, বাবর আলী, আমিনুল ইসলাম, সুমনসহ চিনিকলের শ্রমিক ও কর্মচারীবৃন্দ।