ক্রেডিট কার্ডে ভোগান্তি

18

কড়া ব্যবস্থা নিক কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ক্রেডিট কার্ডে বাড়তি চার্জ না নেওয়ার বিষয়ে দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ৪ এপ্রিল ও ১৫ এপ্রিল এগুলো জারি করা হয়েছিল। সেগুলোতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে। যেসব ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের শেষ তারিখ ১৫ মার্চ থেকে ৩১ মে, যথাসময়ে বিল পরিশোধ করা না হয়ে থাকলেও এসবের জন্য কোনো বিলম্ব ফি, চার্জ, জরিমানা নেওয়া যাবে না। চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ আদায় না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। এপ্রিল ও মে মাসে সব ঋণে সুদ আদায় স্থগিতের নির্দেশনা দিয়ে আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় ৩ মে। ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা কাগজেই সীমাবদ্ধ। ব্যাংকগুলো বিলম্ব ফি ও সুদ ঠিকই আদায় করছে। এপ্রিল ও মে মাসে সব ধরনের ঋণের সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডের সুদ আদায় স্থগিত রাখার নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে বিল পরিশোধ করার পরও সুদ নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গ্রাহকরা এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করছেন, কিন্তু প্রতিকার পাচ্ছেন না। গ্রাহকদের স্বার্থেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধে সুবিধা দিয়ে সার্কুলার জারি করেছিল। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এ ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ব্যাংকগুলো কিন্তু সে কথা মানেনি বিলম্ব ফি, চার্জ বা সুদ আদায় করেছে। চক্রবৃদ্ধি সুদও আদায় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা এ বিষয়ে নীরব। তাঁরা জবাব দিচ্ছেন না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, যদি নিয়মের বাইরে কোনো ব্যাংক সুদ আদায় করে থাকে এবং এসংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে বিধি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের বিষয়ে যে ব্যবস্থার কথা বলেছে সেটি কিন্তু একটি সংকটকালীন পরিস্থিতির সাপেক্ষেই বলা হয়েছে। ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়ের স্বার্থ দেখাই তাদের কাজ। বাস্তবে দেখা যায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাংকগুলো নানা কায়দায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে। মুনাফার প্রসঙ্গ তো আছেই, এ আচরণ বোধ হয় ক্ষমতা প্রদর্শনেরও একটা বিষয়। সাধারণত বেসরকারি ব্যাংক মালিকরা এটা করেন। আর প্রজ্ঞাপন জারি করে দায় শেষ করার একটা প্রবণতা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সেসবের মধ্যে পড়ে। না হলে প্রতিকারে তাদের ধীরগতি কেন? যারা নির্দেশনা মানছে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।