ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান

29

সব বাহিনীর সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি
টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জুয়া-ক্যাসিনো ও মাদকের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সাম্প্রতিক অভিযানে মানুষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। কিন্তু তাদের কিছু প্রশ্নও রয়েছে। এসব প্রশ্নের মধ্যে অন্যতম হলো, এই অবৈধ কর্মকা- অনেক দিন ধরে চলে এলেও এত দিন তাদের ধরা হলো না কেন? অভিযানে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। তেজগাঁওয়ের ফুওয়াং ক্লাবে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেআইনি কিছুই পায়নি। তার তিন দিন পর র‌্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মদ ও অবৈধ বিদেশি সিগারেট পাওয়া গেল। তাহলে পুলিশের অভিযানে কিছুই পাওয়া গেল না কেন? যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের স্বীকারোক্তিতে আরো অনেকের নাম এসেছে বলে জানা গেছে। অনেকে অভিযানের সময় ধরা পড়েনি কিংবা আগেই খবর পেয়ে সরে গিয়েছে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না, অথচ র‌্যাবের হাতে অনেকেই ধরা পড়ছে। মামলাগুলোর তদন্তে ধীরগতির অভিযোগও উঠছে। যুবলীগ নেতা খালেদ ও জি কে শামীমের মামলা মাঝপথে ডিবির কাছ থেকে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব ভালো ইঙ্গিত দিচ্ছে না। এতে পুলিশ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে থাকা নেতিবাচক ধারণাই আরো বাড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দেশে অপরাধের কোনো কমতি নেই। খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, লুটপাটের মতো অপরাধ ক্রমেই বাড়ছে। মাদক শুধু যুবসমাজকেই নয়, কিশোরদেরও ধ্বংসের পথে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। জঙ্গি তৎপরতা এখনো বড় ধরনের শঙ্কার কারণ। আর এসব অপরাধকে ছাড়িয়ে গেছে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন। তাই রাজনীতির ছত্রচ্ছায়ায় থাকা দুর্বৃত্তদের দমনে সাম্প্রতিক যে অভিযান শুরু হয়েছে তা দেশব্যাপী মানুষকে আশান্বিত করেছে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকলে, কোনো বাহিনীর পিছুটান থাকলে পুরো অভিযানই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কাঙ্খিত ফলও পাওয়া যাবে না। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে থানা-পুলিশকে অনেক বেশি তৎপর হতে হবে। এটি তাদের নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করারও একটি বড় সুযোগ। ধারণা করা হয়, ক্যাসিনো-জুয়ার সঙ্গে পুলিশের অনেক কর্মকর্তার সং¯্রব ছিল এবং এগুলো তাদের অবৈধ আয়ের একটি উৎস ছিল। সেটিও তদন্তে আসা জরুরি। প্রমাণ পাওয়া গেলে সেই সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা আশা করি, বর্তমান অভিযানে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীর সমন্বিত ও আন্তরিক অংশগ্রহণ থাকবে।