কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশনের মানে জানেন তো?

64

স্বাস্থ্য ডেস্ক:
করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ধীরে ধীরে দেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকেই এগোচ্ছে। কবে, কোথায়, কীভাবে থামবে এই ভাইরাসের আগ্রাসন তা কেউ জানে না। একদিকে যেমন বেড়েই চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা, তেমনি প্রতিদিন এক এক করে মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। এ যেন এক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সারা বিশ্বে! প্রতিটি দেশের মানুষই বর্তমানে একজোট হয়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই করোনাভাইরাসের। চিকিৎসক থেকে সাধারণ মানুষ বা বিজ্ঞানী— কেউই বাদ পড়ছে না এই তালিকা থেকে।
কোয়ারেন্টাইন: যদি কোনো ব্যক্তি বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসেন বা কোনো আক্রান্ত দেশ থেকে নিজের দেশে ফিরে আসেন এবং তিনি যদি COVID–১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত বলে মনে করা হয়, সে ক্ষেত্রে তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।
কোয়ারেন্টাইন কথাটির অর্থ হল, কোনো ব্যক্তির শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করেছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে সবার থেকে আলাদা করে পর্যবেক্ষণে রাখা। হাসপাতলে কোয়ারেন্টাইন-এর ব্যবস্থা করা হয় না। কারণ, এর ফলে অন্য কোনো রোগী এই ভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারেন। তাই সরকারি ব্যবস্থাপনায় তৈরি হয়েছে একাধিক কোয়ারেন্টাইন পয়েন্ট। এই করোনাভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই তার উপসর্গ প্রকাশ পায় না। ৫-৭ দিন পর হাঁচি-কাশি, গলা ব্যথার মতো লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে। তাই কোনো ব্যক্তির শরীরে এই ভাইরাস আছে কিনা তা বোঝার জন্য তাকে কমপক্ষে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়। এই সময়কালে ওই ব্যক্তি তার পরিবারের কারো সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। সম্পূর্ণভাবে আলাদা রেখে তাকে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
হোম কোয়ারেন্টাইন: এক্ষেত্রে যদি কোনো ব্যক্তি সমস্ত নিয়ম মেনে নিজেকে ঘরেই বন্দি করে রাখেন তাহলে তাকে হোম কোয়ারেন্টাইন বলা হয়। বিদেশ ফেরত কোনো ব্যক্তি বা ভাইরাসে আক্রান্ত কেউ দেশ থেকে ফিরে আসার পর তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিটি একটি আলাদা ঘরে নিজেকে বন্ধি বা সীমাবদ্ধ করে রাখবেন। বাইরের কেউই তার ঘরে প্রবেশ করবেন না এবং ১৪ দিন ধরে থমিক পর্যবেক্ষণে রাখা হবে ওই ব্যক্তিকে।
আইসোলেশন: যদি কোনো ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখতে পাওয়া যায়, তাহলে তৎক্ষণাৎ ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়। হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড সম্পূর্ণ আলাদাভাবে তৈরি করা হয় যাতে সেখান থেকে এই ভাইরাস ওই হাসপাতালের অন্য কোনো রোগীর মধ্যে সংক্রমিত না হতে পারে। ওই রোগীকে হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে প্রাথমিক টেস্ট করা হয়। সেখান যদি তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে তাহলে তাকে সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকতে হয়। এই সময় রোগীকে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেওয়া হয় এবং কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এই সময় রোগীকে যেমন বাইরে বেরোতে দেওয়া হয় না, তেমনি বাইরে কোনো ব্যক্তির সঙ্গেও তাকে দেখা করতে দেওয়া হয় না।