কোভিডের বরাদ্দে অনিয়ম রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক

33

কোভিডকালে সরকারি কেনাকাটায় দুর্নীতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মাস্ক-পিপিই ও ভেন্টিলেটরের মতো জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রী কেনায় দুর্নীতি আমাদের নৈতিক অবক্ষয়ই তুলে ধরেছে। স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কিনতে নেওয়া প্রকল্পের পরতে পরতে দুর্নীতি। বিশ্বব্যাপী কোভিড সংক্রমণে চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এন-৯৫, এফএফপি-২ মানের অথবা সমমানের মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের প্রকল্পে মাস্কসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর দাম ধরা হয়েছে বাজার মূল্যের চেয়ে দুই থেকে চার গুণ বেশি। যেমন- ৫০০ টাকার গগলস ৫ হাজার, ২ হাজার টাকার পিপিই ৪ হাজার ৭০০ টাকা। আর মাস্কের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা করে নিলেও এটি ছিল নিম্নমানের। দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন হওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও গবেষণা শাখার পরিচালককে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রকল্প দুটি থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে। এত খবর প্রকাশিত হওয়ায় দুর্নীতিবাজরা নিবৃত্ত হবেন, এটিই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোভিডের বরাদ্দ নয়ছয়!’ শীর্ষক প্রতিবেদন পড়ে মনে হয় দুর্নীতিবাজরা অনেকটা বেপরোয়া। এত খবর তাদের দায়িত্বানুভূতি জাগ্রত করতে পারেনি। খবরে বলা হয়, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের হোটেল বা গেস্ট হাউসে থাকা-খাওয়া বাবদ নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু সে অর্থ চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের পেছনে ব্যয় হয়নি। ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে তা তুলে নিয়েছে কিছু ব্যক্তি। ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোভিডের বরাদ্দ লোপাট হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ এসেছে। স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে নিয়োজিতদের পরিবারের সদস্যদের কভিড সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা ও চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের আইসোলেশন নিশ্চিত করতে তাদের হোটেল-রেস্ট হাউসে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মানসম্পন্ন না হওয়ায় চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় আইসোলেশন নিশ্চিত করেন। অথচ তারা হোটেলে না থাকলেও তাদের নাম ভাঙিয়ে কক্ষ ভাড়া, খাওয়া ও অন্যান্য খরচের ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আসা প্রতিটি অভিযোগ যাচাই করা উচিত। দোষী সাব্যস্ত হলে শূন্যসহশীলতায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে দোষীরা সংঘবদ্ধ হয়ে কর্মবিরতির হুমকি দিতে পারে। তাদের কাছে নতি স্বীকার করলে অর্থ লোপাটকারীরা প্রশ্রয় পাবে বৈকি। কোনো কর্মকর্তার আমলে ‘হাসপাতালে ব্যাপক উন্নয়ন’ হয়েছে। বিপুল কোভিড রোগী চিকিৎসা পেয়েছে। এর জন্য তিনি পুরস্কার-পদোন্নতিও পেতে পারেন। কিন্তু সরকারি অর্থ তসরুপ করতে পারেন না। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হোটেলে অবস্থান না করলেও অবস্থান করেছেন মর্মে নোটশিটে স্বাক্ষর নেওয়া গর্হিত কাজ। এটি চাকরি বিধির পরিপন্থি। যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তারা এ ধরনের কাজে জড়িত ছিলেন, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত বলে মনে করি।