কোটা পদ্ধতি

150

হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উচ্চ শিক্ষাঙ্গন। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশের উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। ‘কোটা’ বিতর্কটি বেশ পুরনো। তবে এখনো প্রাসঙ্গিক ও অমীমাংসিত। এই কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা কতবার যে রাস্তায় নামল! ২০১৩ সালে তো একেবারে উত্তাল আন্দোলন! কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ধর্মঘট পর্যন্ত হলো। তার পরও বিষয়টির সুরাহা নেই। হাইকোর্টে মামলাও হলো। সম্প্রতি ছাত্রছাত্রীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আবারো কোমর বেঁধে রাস্তায় নেমেছে।
আমরা মনে করি, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তা সহজেই এড়ানো যেত। সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বর্তমান এই আন্দোলন দুই মাস ধরে চলে আসছে। যদিও গত পাঁচ বছর ধরেই এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দাবি উঠেছে, আন্দোলন হয়েছে। এই দাবির পক্ষে যে ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে তা পরিষ্কার। দেশের সচেতন নাগরিক ও বিশেষজ্ঞ পর্যায় থেকেও কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষে মত এসেছে। সরকারি চাকরির ৫৬ ভাগ কোটার আওতায় থাকার অর্থ অনেক মেধাবী প্রার্থীর সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হওয়া। এতে একদিকে যেমন চাকরিপ্রার্থী মেধাবীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার জš§ নেয়, তেমনি দেশও যোগ্য এবং মেধাবীদের সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই একে যৌক্তিক করার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে গণমাধ্যমে অনেক লেখালেখি এবং আলাপ-আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও কোটা পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে জোরালো কোনো অবস্থান সরকারের প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল না। আর বর্তমানে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে যেভাবে যে প্রক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। একইভাবে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট ও জলকামানের ব্যবহারের মধ্য দিয়ে নীতি-নির্ধারকদেরও প্রজ্ঞার পরিচয় মেলেনি। কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সচিবালয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনায় আগামী ৭ মের মধ্যে সরকার কর্তৃক বিদ্যমান কোটার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার যে উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলা ও উপাচার্যের বাসভবনে হামলার ঘটনার কঠোর নিন্দার পাশাপাশি কোটা পদ্ধতির যৌক্তিক সমাধান প্রত্যাশা করি। এ নিয়ে আর কোনো অশান্তি কাম্য নয়। একইভাবে যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের নামে ভাঙচুর, যানচলাচল ব্যাহত করা এবং জনগণের দুর্ভোগ ডেকে না আনার ক্ষেত্রেও সবার সচেতনতা আশা করি।