কোটচাঁদপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ!

23

প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার ৩ নম্বর কুশনা ইউনিয়নের হরিন্দীয়া গ্রামে সিরাজুল ইসলাম মাস্টারের নামে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সিরাজ মাস্টার সরকার দলীয় সমর্থক হওয়ায় পুলিশ রহস্যজনকভাবে তাঁকে ধরছে না।
জানা গেছে, হরিন্দীয়া গ্রামের হত দরিদ্র ভ্যান চালক তাহাজ্জেল ইসলামের মেয়ে মোছাঃ তানজিলা খাতুন (১৪)। অভাব অনটনের সংসার হওয়ায় মেয়েকে মাস্টারের বাসায় মাসিক বেতনে কাজের জন্য দেয়। সেই সুবাদে মাস্টার বেশ কয়েক দিন ধরে বিভিন্নভাবে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল।
এ ব্যাপারে তানজিলা বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন সিরাজুল মাস্টারের বাসায় কাজ করি। আজ থেকে বিগত ছয় মাস ধরে সিরাজুল মাস্টার আমাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। আমি যদি বিষয়টি কাউকে জানাই, আমাকে মেরে গুম করে দেবে বলে বিভিন্ন হুমকি দেয়। তবে ঘটনাটি সিরাজুল মাস্টারের স্ত্রী মিসেস মনজুরা বেগমকে জানালে, তিনি বিষয়টি কাউকে বলতে নিষেধ করেন। কিন্তু আমি আমার বাবা-মাকে সব বলে দিই।’
মেয়েটির বাবা মো. তাহাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘মেয়ের মুখে ঘটনাটি শুনে মাস্টারের কাছে জানতে চাইলে উল্টো আমার সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। তাই আমি বিচারের আসায় কোটচাঁদপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করি। কিন্তু অভিযোগের ১৪-১৫ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কারণ আমি গরিব, আমার টাকা নেই।’ মাস্টার এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এই বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম মাস্টারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘মেয়েটি আমার বাসায় দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’
‘অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, তাহাজ্জেল পুলিশের ব্যাপারে যা বলেছে, তা পুরোপুরি সত্যি না, আমাদের কোনো অবহেলা নেই। বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজনে তাহাজ্জেলের বাড়ি যেয়ে কাউকে পাইনি। তাই আমরা পুনরায় বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।’
এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল আলম জানান, ভুক্তভোগী পরিবার একটা লিখিত অভিযোগ করেছে। সে ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তদন্তে মাস্টার দোষী প্রমাণিত হলে, তাঁর বিরুদ্ধে যথাযোগ্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।