কে থামাবে যুদ্ধের উন্মাদনা?

141

বর্তমানে আমরা এমন একটি বিশ্বে বসবাস করছি, যেখানে প্রতিনিয়ত বাড়ছে টেনশন ও উত্তেজনা। ঘুম হতে জেগে প্রতিদিন কোনো না কোনো হুমকি বা পাল্টা হুমকির সংবাদ পাচ্ছি আমরা। মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ নিয়ে গত সাত-আট বছর ধরে যে খেলা চলছে, তা এক কথায় নির্মম ও নিষ্ঠুর। আরব বসন্তের হাত ধরে সরকার পতনে ব্যর্থ হলে বেজে ওঠে গৃহযুদ্ধের দামামা। কিছুদিন না যাইতেই এই বিশ্বের বুঝিতে বাকি রইলো না। এইসব যুদ্ধের পিছনে কারা কারা কলকাঠি নাড়ছেন। গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটি বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলির লড়াইয়ের ক্ষেত্রে পরিণত হলো। সম্প্রতি সেই দেশটিতে রাসায়নিক হামলাকে কেন্দ্র করিয়া গত কয়েকদিন ধরে বিশ্বে যে উত্তাপ ছড়াইছিলো, তা তিনটি শক্তিধর দেশের যুগপৎ হামলার পর কোথায় গিয়ে শেষ হয়, তা কেউ জানেন না। স্নায়ুযুদ্ধের আলামতের পাশাপাশি অনেকে আবার এর ভিতরে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের গন্ধ খুঁজে পাচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ-বিগ্রহ থামিয়ে গড়ে উঠেছিলো জাতিসংঘ। কিন্তু পৃথিবীতে এই প্রতিষ্ঠান কতটা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে কারো অজানা নয়। সম্প্রতি পক্ষত্যাগী একটি গোয়েন্দা পরিবারের ওপর রাসায়নিক হামলার পরও পশ্চিমা বিশ্বের সাথে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ছায়াশক্তির বিবাদ-বিরোধ বাড়তেই থাকে। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতেই এশিয়ার একটি উদীয়মান শক্তি বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে ৪৮টি যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন ও বিমানবাহী রণতরী নিয়ে শুরু করেছে সবচাইতে বৃহৎ নৌ মহড়া। সর্বোপরি কোরিয়া অঞ্চলে এক তরুণ নেতার একের পর এক হুমকি প্রদান তো আছেই। বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতিতে প্রতীয়মান হয় যে, শান্তিকামী বিশ্ববাসী আজ বড় বড় ও শক্তিশালী দেশের নিকট অনেকটাই জিম্মি হয়ে পড়েছে। তারা আজ একে অপরকে আক্রমণে যে ভাষা ব্যবহার করছে তা কোনো সভ্য পৃথিবীর ভাষা হতে পারে না। ইহা পরিমিতি ও শালীনতাবোধকেও হার মানাইছে। ‘ম্যাডম্যান’, ‘রকেটম্যান’সহ এমন সব উদ্ভট উপাধি জুড়ে দেওয়া হয়েছে যা শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধক। মিসাইলকে বলা হয়েছে ‘সুন্দর, নূতন ও বুদ্ধিমান’। একশ্রেণির জাতীয়তাবাদী নেতার আচরণে বিশ্ববাসী তটস্থ, হতাশ ও হতভম্ব। যেখানেই সম্পদ ও সম্ভাবনা আছে, সেখানেই অশুভ শক্তির পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। তৈরি হয়েছে অশান্তি ও অনাচার। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে যাহারা শোষণমুক্ত ও ন্যায়ের সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলিতেন, তাহারাও আজ নীরব ও নিশ্চুপ। ফলে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ও বাস্তুচ্যুত লক্ষ লক্ষ মানুষের আহাজারি বন্ধ হচ্ছে। নানা অজুহাতে সাত সাগর তের নদী পার হই যারা একটি দেশ বা জনপদ আক্রমণ করছেন, তাদের এই ঔদ্ধত্যের অবসান না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা সুদূরপরাহত।