কে এই রিদয়?

428

দর্শনা অফিস: চাঁরা গাছ বাঁকা হলেও তা কিছু দিয়ে সোজা করা যায়। কিন্তু যে গাছের অঙ্কুরোদগম হয় খারাপ পরিবেশে তা আর ভালো হতে পারে না। আর গাছ ভালো হলেও তার ফল হয় খারাপ। ঠিক এমনি ভাগ্য নিয়ে জন্ম দর্শনা পৌর এলাকার শান্তি নগরের হৃদয়ের। হৃদয়ের দাদা গাফ্ফার আলী দর্শনার মাদক সিন্ডিকেটের ডন নামে খ্যাত। দাদী আলেয়া খাতুন এক সময় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। বংশ পরম্পরায় হৃদয়ের বাবা বাচ্চু মিয়া ও মা শিরিনা খাতুন মাদক ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। শুধু পরিবারের কথা জেনেই হতবম্ব পাঠক? এখনও জানার আছে অনেক।
এই হৃদয়ের চাচা আলোচিত ওয়াসিম ইয়ার্ড চোর সিন্ডিকেটের হোতা ও কুখ্যাত সন্ত্রাসী নামে খ্যাতি লাভ করে আছেন। ২০০২ সালে তৎকারীন সরকার গঠনের পর দর্শনা শান্তিনগর ও মোবারকপাড়াসহ অত্র এলাকার চুরি ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্ম শুরু করে ওয়াসিম। ৭/৮ বছর আগে দর্শনা রেল বন্দরে ভারতীয় পন্য চুরি করার সময় হাতে নাতে ধরা পড়ে মারামারির গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলে তার পতন হয়। হৃদয়ের ফুফু রাবু ও নাজমা দর্শনা এলাকার শীর্ষ মাদক স¤্রাজ্ঞী নামে বর্তমানে পরিচিত। এই পরিবারেরই সন্তান হৃদয়। যারা বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দল বদলের সাথে সাথে ইয়ার্ড চুরি ও মাদক ব্যবসা চালানোর জন্য নিজেদের জার্সি বদলায়।
জানা যায়, পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে অন্ধকার জগতে পদার্পন করে হৃদয়। সে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখা পড়া করেছে। প্রাথমিকের সীমানা পেরিয়ে যার মাধ্যমিকে যাওয়ার কথা সে পরবর্তিতে তার দাদা, দাদী, বাবা, মা, চাচা, ফুফু সূত্র ধরে পা বাড়ায় ইয়ার্ড চুরির কাজে। ২০০৮ সালে আ. লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক দলীয় কিছু নেতাদের ছত্রছায়ায় ১০/১৫ জনের একটি চোর সিন্ডিকেট তৈরি করে সে। সেই থেকে ঐ চোর সিন্ডিকেটের দলনেতা হিসাবে বিভিন্ন সময় ইয়ার্ডের ওয়াগন র‌্যাক ভেঙে মালামাল চুরি করে আসছিল। ২০১৪ সালে দর্শনা রেল বন্দর এলাকা চোর সিন্ডিকেটদের উৎপাত ঠেকাতে সরকারের উদ্যোগে বন্দর এলাকায় প্রাচীর নির্মান করা হয়। এরপর থেকে হৃদয় ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। চুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সময় রাগে ক্ষোভে নিরাপত্তার সুযোগ বুঝে কর্মীদের উপর আতর্কিত হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার। এরপর থেকে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য বেছে নেয় বংশীয় সূত্রে পাওয়া মাদক ব্যবসা। সে বছর চারেক আগে মাদকের স্পট গড়ে তোলে শান্তিনগরের বিভিন্ন মহল্লায়। বলা যায় মাদকের রমরমা ব্যবসায় দর্শনার একাংশ মাদকের পরিবেশক হিসাবে বেশ খ্যাতি আছে তার। বিভিন্ন সময় মাদকের উপর অভিযান পরিচালনা হলে তখন হৃদয় ও তার সঙ্গীরা চুরি এবং রাস্তায় গাছ ফেলে ডাকাতি কাজে ঝাপিয়ে পড়ে। সর্বশেষ দেড় মাস আগে দর্শনা রেল বন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের সাথে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। মারামারিতে চার জন নিরাপত্তা কর্মীকে কুপিয়ে জখম করে হৃদয়সহ তার সঙ্গীরা। এতে গুরুতর জখম হয়ে এখনও দুই রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মী ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে বলে জানায় নিরাপত্তা অফিসার। এভাবেই দিনের পর দিন আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে হৃদয়।
তার নামে যত মামলা: জেলা সদর, দামুড়হুদা মডেল থানায় চারটি, সৈয়দপুর ও পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় একটি করে দুটি, ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি, বিভিন্ন থানায় মাদক, সন্ত্রাসী ও ছিনতাই, চাদাবাজিসহ ১৪টি মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি।