কী রহস্য লুকিয়ে পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে

49

প্রযুুক্তি প্রতিবেদন
পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কৌতূহলের অন্ত নেই। যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর কেন্দ্রের গঠন নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এবার বিজ্ঞানীরা সেই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই খুঁজে পেয়েছেন। মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের তরঙ্গ এবং তরঙ্গের শব্দ রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে অদ্ভুত এক তথ্যের সন্ধান পেয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, পৃথিবীর কেন্দ্রে রয়েছে অদ্ভুত এক কাঠামো। সেখানে গভীর, ঘন, গরম পাথর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। নতুন এই গবেষণা প্রতিবেদনটি জার্নাল সায়েন্সে গত ১২ জুন প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এই কাঠামোগুলো কী দিয়ে তৈরি তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা। এর আগেও এমন তথ্যের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল, তবে ছবি না মেলায় তা নিয়ে বেশিদূর এগোতে পারেননি তারা। এবারের এই তথ্য নিয়ে যদি আরো কিছু আবিষ্কার হয় তবে পৃথিবীর ভবিষ্যতের বিবর্তন এবং টেকটনিক প্লেট নিয়ে নানা তথ্য দিতে পারবেন বিজ্ঞানীরা। ঐ বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের তরঙ্গ এবং তরঙ্গের শব্দ রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে সেখানে অচেনা এক শব্দের উৎপত্তির কথা জানতে পেরেছেন। এটি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করতে তারা প্রশান্ত মহাসাগরের নিচের অংশে ভূমিকম্পের তরঙ্গের কম্পনের ওপর জোর দিচ্ছেন। বড়ো ধরনের কয়েক শ ভূমিকম্পের তথ্য বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক দোয়েওন কিম এবং তার সহকর্মীরা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে আগ্নেয়গিরি মার্কেসাস দ্বীপের নিচে একটি নতুন কাঠামোর সন্ধান পান। কাঠামোটি আলট্রা লো ভেলোসিটি (টখঠত) জোন হিসেবে পরিচিত। এটি প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার ব্যাসের এবং ২৫ কিলোমিটার পুরু। এ কাঠামোকে আলট্রা লো ভেলোসিটি বলার কারণ হচ্ছে, এখান দিয়ে ভূমিকম্পের তরঙ্গ ধীরগতিতে যায়। তবে এটি তৈরির বিষয়টি এখনো রহস্য। এ কাঠামো পৃথিবীর আয়রন, নিকেল অ্যালয় কোর এবং সিলিকেট রক ম্যান্টল থেকে রাসায়নিকভাবে পৃথক হতে পারে বা বিভিন্ন তাপ সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। গবেষক কিম বলেছেন, এটি জানার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর কাঠামো কীভাবে গড়ে উঠেছে এবং সময়ের সঙ্গে তা পরিবর্তন হয়েছে, তা জানা যাবে। পৃথিবীর ম্যান্টল হলো—যেখানে পরিচালন ঘটছে এবং এটি টেকটনিক প্লেট ও আগ্নেয়গিরি সক্রিয় অঞ্চল। ইউএলভি অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করা গেলে কিছু আগ্নেয়গিরির উৎস পৃথিবীর তলদেশের নিচে রয়েছে কি না এবং পৃথিবীর গঠনও ভালোভাবে বুঝতে পারা যাবে।