কালেমা তাইয়েবার দাবি

50

ধর্ম ডেস্ক: কালেমা তাইয়েবা হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ বা প্রভু নেই এবং মুহম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। দুনিয়ায় শান্তি ও আখিরাতে মুক্তি পেতে হলে জীবনের সব ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালাকে একমাত্র বিধানদাতা ও আল্লাহর রাসুলকে একমাত্র অনুসরণীয় এবং অনুকরণীয় হিসেবে মেনে নিতে হবে। এরপর নিজের বাস্তব জীবন থেকে ইসলামের বিপরীত চিন্তা, কাজ ও অভ্যাস দূর করতে হবে। পাশাপাশি সমাজ থেকে সব ধরনের জুলুম, শোষণ ও অবিচারের অবসান ঘটানোর জন্য প্রচেষ্টা করে যেতে হবে। কালেমা তাইয়েবার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সঙ্গে উপর্যুক্ত দাবি পূরণেরই ওয়াদা করি। তাই এর তাৎপর্য ও অন্তর্নিহিত শক্তি অত্যন্ত ব্যাপক। এ কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) কালেমা তাইয়েবাকে একটি মহীরুহের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যার শেকড় মাটির গভীরে প্রোথিত এবং শাখা-প্রশাখা দিগন্ত প্রসারিত। ঈমানের বীজ রোপিত হয় মুমিনের অন্তরে এবং তা সুশোভিত হয় তার চরিত্র ও কর্মে। আর এর সৌরভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা সমাজে। মুমিনের চরিত্রে ও কর্মে মুগ্ধ হয়ে এবং ঈমানের দাওয়াতে বিমোহিত হয়ে মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে গড়ে তোলে একটি শোষণহীন, ইনসাফপূর্ণ আদর্শ সমাজ। তাই ঈমানের পরিধি মুমিনের অন্তর থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত। কালেমা কোনো মন্ত্র নয়, কালেমা শুধু অন্তর পরিষ্কারের হাতিয়ারও নয়, কালেমা চিন্তার পরিশুদ্ধি, চরিত্র গঠন ও আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের মূল চাবিকাঠি। কালেমায় আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ বা বিধানদাতা বলে সত্যিকারভাবে মেনে নেয়ার কারণে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে আমূল পরিবর্তন এসেছিল এবং তারা একটি সোনালি সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেকালের আরবি ভাষাভাষী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী কালেমার অর্থ ও চূড়ান্ত ফলাফল বুঝতে পেরেছিল। তাই তারা কালেমাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং এর প্রচারকে সর্বশক্তি দিয়ে রুখতে চেয়েছিল। আজো যারা কালেমাকে যথার্থ অর্থে গ্রহণ করবে এবং এর প্রচার করবে, চিরাচরিত নিয়মে তারা অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হবেÑ এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রকৃত ঈমানদার থাকেন ঈমানের পথে অটল ও অবিচল। এ কালেমা একজন মানুষের অন্তরে প্রশান্তি বয়ে আনবে, তার চরিত্রকে নির্মল করবে এবং পরকালীন মুক্তির অন্যতম কারণ হবে।