কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগে ৩ নাজমুলের গোলকধাঁধা!

49

ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দাবি করেছেন তিন নাজমুল। এ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন সাধারণ কর্মীরা। বিভ্রান্তি নিরসনে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদ কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির নাম ও গ্রাম উল্লেখ করে বিবৃতি এবং নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেও কাটছে না বিপত্তি। বরং স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেদেরকে সভাপতি দাবি করা হচ্ছে। সভাপতি দাবি করা তিন নাজমুল হলেন কালীগঞ্জের মল্লিকপুর গ্রামের নাজমুল হোসেন, পুকুরিয়া গ্রামের (বর্তমান কালীগঞ্জ শহরের বৈশাখী মোড়) নাজমুল হাসান নাজিম ও মনোহরপুর গ্রামের নাজমুল ইসলাম। তবে জেলা ছাত্রলীগ ঘোষিত নতুন কমিটির সভাপতি হচ্ছেন কালীগঞ্জের মল্লিকপুর গ্রামের নাজমুল হোসেন। তিন নাজমুলের সভাপতি দাবির বিষয়টি স্বীকার করেছেন কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিঠু মালিথা।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ৬ জুলাই রাতে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের প্যাডে সভাপতি রানা হামিদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নাজমুল হাসান নাজিমকে সভাপতি, মনির হোসেন সুমনকে সাধারণ সম্পাদক ও জাবেদ হোসেন জুয়েলকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন সভাপতি নাজমুল হাসান নাজিমের বয়স না থাকা ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ হোসেন জুয়েলের বিয়ে করার বিষয়টি প্রমাণিত হলে নতুন কমিটি ঘোষণার ৪ দিনের মাথায় ১০ জুলাই তাঁদের দুজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই প্যাডে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি নাজমুল হোসেনকে সভাপতি ও মো. রিয়াজউদ্দিনকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর নাজমুল হোসেন নামের দুই ছাত্রলীগ নেতা নিজেদের সভাপতি ও সাবেক সহসভাপতি বলে দাবি করে ফেসবুকে প্রচার চালাতে থাকেন। এর মধ্যে নিজেকে সভাপতি হওয়ার নতুন দাবি তুলে আবার যোগ দেন মনোহরপুর গ্রামের নাজমুল ইসলাম। এ তিন নাজমুলের গোলকধাঁধায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে জেলা ছাত্রলীগ।
এ দিকে প্রথম ঘোষিত কমিটি থেকে সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদককে অব্যাহতি দেওয়ায় বিক্ষোভ শুরু করেছে ছাত্রলীগের একাংশ। ১০ জুলাই রাতে কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তাঁরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। তিন নাজমুলের সভাপতি দাবি করার বিষয়টি সত্য বলে উল্লেখ করে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিঠু মালিথা জানান, ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক-বাহক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তার একটা গঠনতন্ত্র আছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ ও জেলা কমিটি যে কমিটি দিয়েছে, সেটাই কালীগঞ্জ উপজেলা কমিটি হিসেবে বিবেচিত হবে। সাবেক নেতা হিসেবে মিঠু মালিথা নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ কমিটি মানতে সবাই বাধ্য।