কালীগঞ্জে ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে স্ত্রীর অধিকার চেয়ে এক নারীর অভিযোগ!

27

প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক ইকরামুল (৪২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্বামীর অধিকার চেয়ে জোসনা (৩২) নামের এক নারী অভিযোগ করেছেন। জোসনা গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার পরানপুর গ্রামের শ্রী বিজন বিশ্বাসের মেয়ে। অন্যদিকে ইকরামুল ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নলডাঙ্গা ইউনিয়নের খড়াশুনি গ্রামের বক্কার মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, জোসনা একজন হিন্দু পরিবারের মেয়ে। বিয়ের সূত্র ধরে স্বামী নিয়ে কালীগঞ্জ শহরের ঢাকালেপাড়া তাঁরা বাসা ভাড়া করে থাকতেন। সংসারে দারিদ্র্যতার ছোঁয়া থাকায় স্বামী-সন্তান নিয়ে একটু সচ্ছলভাবে জীবনযাপনের জন্য তিনিও একটা কর্মের সন্ধান করতে থাকেন। এ অবস্থায় লেখাপড়া না জানায় ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতালে আয়ার কাজ মেলে তাঁর। কিছুদিন কাজ করার পর ক্লিনিকের মালিক ইকরামুলের বদ নজরে পড়েন জোসনা। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফুঁসলাতে থাকেন ইকরামুল। একপর্যায়ে জোসনার সরলতার সুযোগ নিয়ে তাঁর সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা চলতে থাকে ইকরামুলের। দীর্ঘদিন অবৈধ মেলামেশা চলতে চলতে জোসনার গর্ভে বাচ্চা এসে যায়। এ অবস্থায় জোসনা তাঁকে বিয়ের চাপ দিলে ইকরামুল জোসনাকে দিয়ে পূর্বের স্বামীকে ডিভোর্স করিয়ে ঝিনাইদহ শহরে একটি আবাসিক হোটেলে এনে মুসলমান বানিয়ে গত ২০ শে ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন বলে জোসনার দাবি। এরপর জোসনার কাছে অনেক বিশ্বস্ত সেজে এবং মুসলমান ধর্মে বিয়ের আগে বাচ্চা বৈধ না বলে ফুঁসলিয়ে পেটের বাচ্চাটাকে নষ্ট করে ফেলা হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জোসনা। এভাবে ঝিনাইদহ শহরের আর্দশপাড়া, খন্দকার পাড়া এলাকায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া করে রেখে জোসনার কাছে আসা যাওয়া করতে থাকেন ইকরামুল। বর্তমান কালীগঞ্জ শহরে পশু হাসপাতালের পাসে বাসা ভাড়া করে রেখে গত ১০ দিন হলো জোসনার খোঁজখবর নেন না এবং স্ত্রী বলেও পরিচয় দিচ্ছে না বলে অভিযোগ জোসনার।
এ বিষয়ে জোসনা বলেন, বিয়ের বিষয়ে মুখ খুললে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন ইকরামুল। জোসনা আরও বলেন, এ বিষয়ে কালীগঞ্জ ক্লিনিক মালিক সমিতির কাছে স্বামীর অধিকার চেয়ে ইকরামুলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টির নিয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রব্বানি ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করে বলেন, জোসনার অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁরা ইকরামুলকে মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য বলেছেন। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে জাতীয় মহিলা সংস্থা ঝিনাইদহ সদরে একই অভিযোগের ভিত্তিতে আরেকটি অভিযোগ দায়ের করি। এই বিষয়ে ইকরামুলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টির ওপর জানতে চাইলে জাতীয় মহিলা সংস্থা ঝিনাইদহ জেলা অফিসার ব্রজেস চন্দ্র গোয়ালা বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। আমরা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’