কার্পাডাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে উভয় পক্ষের ৯টি মামলা দায়ের : রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের আশঙ্কা এলাকাবাসীর

301

IMG_7066নিজস্ব প্রতিবেদক: কার্পাডাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধে উভয় পক্ষের মধ্যে ৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। যে কোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
জানা গেছে, কার্পাসডাঙ্গা মুচির বটতলা নামক স্থানে তিনটি ঔষধ, কীটনাশক ও সার এর দোকান চলতি বছর ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পূর্বাশা পরিবহনের একটি কোচ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দোকানগুলোর সাথে ধাক্কা দিলে দোকান গুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে যায়। এরপর দোকান থাকা স্থান গুলোকে নিজেদের জমি বলে দাবি করে দু’পক্ষ বিরোধে জড়ালে এখনো পর্যন্ত ওই কোন কোন দোকান গড়ে উঠেনি এমনকি ভাঙ্গা দোনগুলো সংস্কার হয়নি। পরবর্তীতে জমি দাবি করা দু’পক্ষই নিজেদের জমি বলে দাবি করে মামলায় জড়িয়ে পড়েছে। এপর্যন্ত দু’পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে মোট ৯টি মামলা করেছে।
এছাড়া দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসা এই জমির কোন সীমানা ঠিক করতে পারেনি কেউ। বেশ কয়েকবার সীমানা নির্ধারণের জন্য জমি মাপামাপির চেষ্টাও হয়েছে ব্যর্থ বলে স্থানীয়রা এই প্রতিবেদককে জানান। এ জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের কেউ ভুমি অফিস অথবা ইউনিয়ন পরিষদে কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের না করে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে লিপ্ত বলে সরেজমিনে জানা যায়।
এবিষয়ে জমির মালিক দাবিদার একপক্ষ নিজাম উদ্দিনের ছেলে ইব্রাহিম খলিল জানান, কার্পাসডাঙ্গা কবরস্থান মোড়ে বা মুচির বটতলা নামক স্থানে যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে, এ বিরোধে আমার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘর ভাংচুর করা হয়েছে বলে আমার বিরুদ্ধে ৪ জন মিলে ৭টি মামলা দায়ের করেছে। সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘর ভাংচুর এর বিষয়গুলো সর্ম্পূণ মিথ্যা বানোয়াট বলেও তিনি উল্লেখ করেন। খলিল আরো বলেন, ১৭০১-১৭০২ হাল ৩৩৫৩ দাগে আমার পিতা নিজাম উদ্দিন গং এর পৈত্রিক সম্পত্তি। এ সম্পত্তির লোভে লালিত হয়ে সৈয়দ আলী, আক্তার, ওসমান ও বাবুল দাস দখল করে নেওয়ার পায়তার করছে। এ নিয়ে আমার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা দায়ের করেছে। এসব মিথ্যা মামলা নাম্বার গুলো হলো-১২২/১৭, ৪২৭/১৭, সি আর ৩৪৩/১৭, সিআর ৩৪৯/১৭, সিআর ৩৬৯/১৭। মামলা দেওয়ার পরও আমাকে ওরা হুমকি দিচ্ছে বলে খলিল এই প্রতিবেদককে জানায়।
এদিকে, আরেক পক্ষ ছাব্দার আলীর ছেলে সৈয়দ আলী জানান, ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ সকালে দোকান পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আমাদের দোকান ভেঙ্গে দেয়। পরে আমরা দোকান সংস্কার করতে গেলে খলিলরা বাধা দেয়। এছাড়া দোকানের ভাঙ্গা অবশিষ্ট যা ছিলো সেই সব সহ দোকানের টিনগুলো খলিলরা দুরে ফেলে দিয়েছে। এসময় সৈয়দ আলীকে ঐ স্থানে নতুন করে টং দোকান করতে দেখা যায়।
এদিকে পঞ্চারাম দাসের ছেলে বাবুল দাস বলেন, আমরা হারেজ হালসানা নিকট থেকে জমি ক্রয় করেছি। কাদের বিশ্বাস এর ছেলে শহিদুজ্জামান এর নিকট থেকে গত ১২/১০/২০০৯ সালে দলিল মুলে আমার স্ত্রী লক্ষীবালা দাদী ও ছেলে বিফল কুমার দাসের নামে ৫৯৬৭ দলিল মুলে খরিদ করেছি। আমার বাড়িঘর ভাংচুর করায় তার বিরুদ্ধে ২টি মামলা করেছি। তবে ইব্রাহিম খলিল জানায় এসব জমির বিষয় নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নেই। তবে ওরা কেন আমার নামে মামলা করেছে জানি না।
বাবুল দাসের বাড়িঘর ভাংচুরের বিষয় সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী ইসমাতারার কাছে বাবুল দাসের বাড়ি ঘর ভাংচুরের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাবা আমি যা দেখেছি সত্যি কথা বলবো বাবুল দাস ফকির মাহামুদের ছেলে জহিরুল ইসলামের জমিতে ঘর করে। পরে জহিরুল তার ঘর সরিয়ে নিতে বললে বাবুল দাস তার ঘর সরিয়ে নিয়েছে এটুকু জানি। তার ঘর বাড়ি কেউ ভাংচুর করেনি।
নুর ইসলামের ছেলে ওসমান আলী জানান, ইব্রহিম খলিল জমি দাবী করে আমার টিনের চালা সরিয়ে ফেলে দিয়েছে ঐ দেখেন। আমি তার বিরুদ্ধে ২টি ঘর ভাঙ্গা মামলা করেছি।
সাবেক মেম্বার বকুল বিশ্বাস জানায়, আক্তারের ঘর ভাড়া নিয়ে ২০০৫ সাল থেকে তেল সারের ব্যবসা করছিলাম। আর ওসমানও একই সময় ঘর করেছে। তবে পূর্বাশা পরিবহন সমস্ত ঘরগুলো ভেঙ্গে দেয়। এরপর খলিল জমি তার দাবী করে আক্তার ও সৈয়দ ঘরের বাকি অংশ ভেঙ্গে দেয় এবং বদরের ঘরে তালা লাগিয়ে দেয়। এরপর প্রশাসনের সহায়তায় বদরের ঘরের তালা খুলে দেয়।
এসব বিষয় সাবদার হোসেনের ছেলে আক্তার হোসেন জানান, পূর্বাশা পরিবহনে আমার ঘর ভেঙ্গে দিলে পরে খলিল আমাকে আর ঐ জমিতে ঘর তুলতে দেয়নি। আমাকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। ফলে আমি বাদি হয়ে খলিলের বিরুদ্ধে দোকান ঘর ভাঙ্গা এবং লুটপাট করার জন্য ১টি মামলা দায়ের করেছি। এদিকে খলিলের দাবী, আমার জমিতে জোরপূর্বক দোকান ঘর নির্মান করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ছিল। তাই আমাকে নানা রকমের মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। ফলে আমি কোর্টে ২টি মামলা দায়ের করেছি। তবে জমির কাগজ দেখাদেখি হলে এসব জমি আমার হবে। আমার সব কগজপত্র আছে বলে দাবী করেন তিনি। জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধে উভয় পক্ষের মধ্যে ৯টি মামলা নিয়ে যে কোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ ঠেকাতে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।