কর্মসংস্থান হতাশাজনক

437

উন্নয়নের একটি প্রধান শর্ত হচ্ছে কর্মসংস্থান। আর এই কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজন েেদশে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকা- বৃদ্ধি। বিগত বছরগুলোতে দেশে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকা-ও বেড়েছে। তবে তা যে যথেষ্ট মাত্রায় হয়নি তার প্রমাণ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জরিপ। বিবিএসের জরিপে দেখা যায়, গত দুই বছরে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৪ লাখ মানুষের এবং এখনো বেকার রয়েছে ২৬ লাখ মানুষ। ২০১৩ সালের জরিপেও বেকারের সংখ্যা একই ছিল; যদিও অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের অনেকেই জরিপের এই ফলাফল মেনে নিতে পারেননি। তাঁদের মতে, মোট কর্মসংস্থান এত কম হতেই পারে না। জরিপে কোথাও ভুল থাকতে পারে। আশার কথা, জরিপ অনুযায়ী পুরুষের কর্মসংস্থান খুব একটা না বাড়লেও নারীর কর্মসংস্থানের হার এ সময়ে ২ শতাংশের মতো বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা একে যথেষ্ট ইতিবাচক বলে মনে করছেন।
খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, বাংলাদেশ ছিল প্রায় সম্পূূর্ণ রূপে একটি কৃষিনির্ভর দেশ। মানুষের কর্মসংস্থানও ছিল মূলত কৃষিক্ষেত্রে। যেহেতু কৃষিজমি বাড়ছে না, তাই বর্ধিত জনসংখ্যার কর্মসংস্থানের জন্য কৃষিবহির্ভূত অর্থনৈতিক কর্মকা- বিস্তৃত করার প্রয়োজন দেখা দেয়। অতীতে সেই প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে না এগোনোয় বেকারত্বের হার অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তরুণ-যুবকরা বাধ্য হয়েছিল ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা কিংবা অন্যান্য উপায়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে। সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধভাবে বিদেশযাত্রার সেই ধারা কিছুটা হলেও কমে এসেছে। বর্তমান জরিপেও দেখা গেছে, কৃষি খাত থেকে মানুষ ক্রমেই সরে আসছে। ২০১৩ সালে যেখানে কৃষি খাতের শ্রমবাজারে মানুষের অংশগ্রহণ ছিল ৪৫ শতাংশ, তা নেমে এসেছে ৪৩.৭ শতাংশে। তার পরও বিবিএসের এই জরিপে মোট কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না দেখে অনেকেই হতাশ হয়েছেন। অর্থনীতিবিদরা জরিপের ফলাফলে যে দ্বিমত করছেন, তার কিছু সংগত কারণও রয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসাবে বাংলাদেশে ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলে আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়। সে হিসাবে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলে বছরে সাড়ে ১৭ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়। দুই বছরে হয় ৩৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান। সে কারণে বিবিএসের জরিপে ১৪ লাখ কর্মসংস্থানের যে হিসাব দেওয়া হয়েছে তাকে তাঁরা বিশ্বাসযোগ্য মনে করতে পারছেন না।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে উল্লেখযোগ্য হারে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। ক্রমান্বয়ে এর গতি বাড়ছে। সেই সঙ্গে দেশি বিনিয়োগও বাড়ছে। বর্ধিত কর্মসংস্থানের স্বার্থে সরকারকে শিল্পায়নের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। সেবা খাতসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকা-ও যাতে দ্রুত বিকশিত হয় তার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির আরো উন্নয়ন করতে হবে। তাহলে নিকট ভবিষ্যতে দেশে বিনিয়োগ আরো গতি পাবে, সেই সঙ্গে বাড়বে কর্মসংস্থানের হারও।