করোনা রোগীদের সেবায় সিভিল সার্জনের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ!

36

সমসাময়িক বিষয়ভিত্তিক ‘সমীকরণ সংলাপে’ সাবেক মেয়র টোটন জোয়ার্দ্দার
সমীকরণ প্রতিবেদন:
মহামারী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সচেতনতায় যখন মুক্তির পথ। ঠিক সেই মুহূর্তে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও জেলার শীর্ষ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের করণীয় নিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে দৈনিক সময়ের সমীকরণ। পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিকের পরিকল্পনা ও গ্রন্থনায় দৈনিক সময়ের সমীকর-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে নিয়মিত “সমসাময়িক বিষয়ভিত্তিক ‘সমীকরণ সংলাপ’ নামের একটি আলোচনার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারে কারিগরী সহযোগিতায় ছিলেন পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদক এসএম শাফায়েতসহ সমীকরণ অনলাইন টিম।
আলোচনার প্রসঙ্গ রাখা হয়েছে ‘করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়’। অনুষ্ঠানে গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে সাতটায় দৈনিক সময়ের সমীকরণ’র প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপনের পরিচালনা ও সঞ্চালনায় নিজ কার্যালয় থেকে সংলাপে সরাসরি অংশ নেন সাবেক পৌর মেয়র ও চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন এবং যমুনা টিভি ও দেশ রুপান্তরের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম ডালিম। সঞ্চালক নাজমুল হক স্বপনের স্বাগত বক্তব্যের পর দর্শক ও শ্রোতাদের সালাম জানিয়ে প্রসঙ্গত আলোচনা শুরু হয়।
জনসচেতনতা সৃষ্টি ও বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সফলতা তুলে ধরে টোটন জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘করোনাভাইরাস পরিস্থিতি উদ্ভব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও জেলা আ.লীগের সভাপতি সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার এমপি’র নির্দেশনায় আমরা সারা জেলাব্যাপী মাইকিং ও হ্যান্ডবিল বিতরণ করি। সাধারণ জনগণের সচেতনার জন্য এ ধারা অব্যহত রাখি। সারা পৃথিবী আজ অচল, আমরা ঘরের মধ্যে অবস্থান করছি। এজন্য আমরা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা অব্যহত রেখেছি। তাতে জনগণ সাড়া দিয়েছে। কিছু সংখ্যক মানুষ তাদের কর্মের কারণে ঘরের বাইরে অবস্থান করছে। তবে আমাদের কার্যক্রম অব্যহত রেখেছি, আগামীতেও অব্যহত রাখবো। আমরা নিয়মিত শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগেই প্রায় ১০ হাজার মাস্ক বিতরণ করেছি। এ ছাড়াও জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে আরও ১০ হাজার মাস্ক প্রদান করা হয়েছে। আমরা স্বল্প সংখ্যক হ্যান্ডগ্লভস প্রদান করেছি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছেলুন জোয়ার্দ্দার এমপি’র ব্যক্তিগত উদ্যোগে সদর হাসপাতাল, চক্ষু হাসপাতালের সব স্টাফদের জন্য পিপিই দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন ছোট ছোট হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে আমরা স্বল্প সংখ্যক পিপিই দিয়েছি।
ত্রাণ বিতরণে দাতাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে সাবেক পৌর মেয়র বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বড়ই সমন্বয়ের অভাব। জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার মাধ্যমে যেভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে তাতে করে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন হচ্ছে না। এই ত্রাণগুলো যদি একজায়গায় করে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা যেত তবে মানুষ বাড়ি বসে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রণ পেত, তাদের ছোটাছুটি করা লাগতো না।’
ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে জেলার সংবাদপত্র বিক্রয় প্রতিনিধি, স্বর্ণকার, লোকাল বাস শ্রমিক, ইমারত শ্রমিক, কাঠমিস্ত্রি, রং মিস্ত্রি, হোটেল শ্রমিক, পাখিভ্যান চালকদের ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আমরা খ্রিস্টান পল্লী, মালোপাড়ায় ত্রাণ পৌছে দিয়েছি। এভাবে প্রত্যেকটি শ্রেণীকে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করেছি।’
করোনা পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা ও একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে সরেজমিনে দেখা সচেতনতা কার্যক্রম এবং ত্রাণ বিতরণ প্রসঙ্গে আরিফুল ইসলাম ডালিম বলেন, ‘অস্বচ্ছল মানুষদের জন্য বর্তমান সরকারের যে ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম তা আমাদের কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার জন্য যে পরিমাণ খাদ্য সহায়তা ও অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে তা আমার কাছে অনেক বড় মনে হয়েছে। তবে খাদ্য সহায়তা বিতরণে সমন্বয়হীনতা সবচেয়ে বড় সংকট বলে মনে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতির শুরুর দিকে যদি একটা কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হতো তবে হয়তো এই সংকটে পড়তে হতো না।’
পেশাগত দায়িত্বপালনে অসহযোগিতা ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা মাঠে কাজ করি তারাও কিন্তু ঝুঁকির বাইরে নই। যেভাবে চিকিৎসক, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আক্রান্ত হচ্ছেন সেভাবে আমরাও আক্রান্ত হতে পারি। তবে চুয়াডাঙ্গা জেলায় এখনও পর্যন্ত কোন গণমাধ্যমকর্মী আক্রান্ত হয়নি। তবে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে আমরা আমাদের পেশাগত দায়িত্বপালন করছি। এ ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিপরীতে স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে আমাদের প্রশাসনিক একটা দূরত্ব লক্ষ্য করেছি। স্বাস্থ্য বিভাগের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত খুব বড় কোন সহযোগিতা পায়নি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় করোনা উপসর্গ নিয়ে থাকা রোগী ও মানুষদের কথা বলা হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের তেমন তৎপরতা চোখে পড়েনি। সাংবাদিকদের সুরক্ষার ব্যাপারেও স্বাস্থ্য বিভাগ চরম উদাসীন। তথ্য সহযোগিতার ক্ষেত্রেও সিভিল সার্জনের পূর্ণ সহযোগিতা পাওয়া যায় না।’
এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে আলোচকরা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জনের উদাসীনতার ব্যাপারে নিন্দামত ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। টোটন জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘একটা জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান হিসেবে ওনার (সিভিল সার্জন) দায়িত্ব কর্তব্য নিয়ে বহু প্রশ্ন আছে। উনি কোন জায়গায় সরকারের অর্থ আছে ওইটা খুঁজে বেড়াচ্ছেন। করোনা রোগীদের দেখতে উনি একবারও গেছেন কী না আমার সন্দেহ আছে। উনি কখনও হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিট পরিদর্শন করেন না। উনি জানেনও আইসোলেশনে থাকা রোগীদের কী খেতে দেয়া হয়। কতটা মানসম্মত খাবার তাদের কাছে পৌঁছানো হয়। কতবার খাবার, ওষুধ দেয়ার কথা তা ঠিক মতো দেয়া হচ্ছে কী না, ডাক্তার-নার্স কতবার তাদের কাছে যাচ্ছে, পর্যাপ্ত সেবা দেয়া হচ্ছে কী না- উনি কী বলতে পারবেন? আমার কাছে যে তথ্য আছে তাতে করে ওই খাবার মানসম্মত না। তাছাড়া রোগীরাও কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না। তাই স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকাণ্ডে আমরা জেলা আওয়ামী লীগ অসন্তোষ প্রকাশ করছি।’
এ ছাড়াও সঞ্চালক ও দর্শকদের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেয়াসহ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, নিজেদের দায়িত্বকর্তব্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, জেলাবাসীর স্বাস্থ্য-সুরক্ষা, গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষা, সুবিধা-অসুবিধাসহ নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলেন রাজনীতিক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন ও গণমাধ্যমকর্মী আরিফুল ইসলাম ডালিম।
আজকের অতিথি: চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক মাথাভাঙ্গার সম্পাদক ও প্রকাশক সরদার আল আমিন, দৈনিক পশ্চিমাঞ্চলের সম্পাদক ও প্রকাশক আজাদ মালিতা এবং মেহেরপুর প্রতিদিনের প্রকাশক এম.এ.এস ইমন। দেখতে, শুনতে ও আপনার সুচিন্তিত পরামর্শ জানাতে আজ বুধবার রাত নয়টায় যুক্ত হোন দৈনিক সময়ের সমীকরণ এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে।