করোনা প্রতিরোধে নবী (সা.) এর সুন্নাহ

30

ধর্ম প্রতিবেদন:
১৪০০ শত বছর আগে বিশ্বনবী (সা.) যা বলে গেছেন। যেভাবে পরিচ্ছন্ন থাকার কথা তিনি বলেছেন। আজ সেটাই চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞরা বলছেন। হাতের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ছড়ায় এই ভাইরাস। বারবার হাত ধোয়ার কথা বলা হচ্ছে। মুসলমান পাঁচবার নামাজ পড়েন। পাঁচবার অজুু করেন। চান বা না চান পাঁচবার অটোমেটিকভাবে হাত ধোঁয়া হয়ে যায়। যত্রতত্র থু থু ফেললে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। ইসলামে যত্রতত্র থু থু ফেলা সমর্থন করে না। থু থু ফেললে পরিবেশ দূষিত হয়। একজনের থু থু অন্যজনের দুর্ভোগের কারণ হতে পারে। মুখের মধ্যের শুষ্কতা দূর করে থু থু। পরিবেশ দূষণ বিষয়ে বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, তোমরা পরিবেশকে দূষিত করবে না। বিশ্বনবী (সা.) আরো বলেছেন, খবরদার! তোমরা পানির মধ্যে নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে না বা ফু দেবে না। (তিরমিজি, ১৪১০)।
তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়াল। নবী (সা.) সুন্নাহ যে অনুসরণ করে। সে অকারণে যেখানে সেখানে থু থু ফেলবে না। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। হাত, কাপড়, টিস্যু দিয়ে থেকে হাঁচি দেয়া হলো আদব। কমনন্সেস। হাঁচি আল্লাহর নেয়ামত। হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ পড়া সুন্নত। হাঁচির জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ পড়াও সুন্নত। হাঁচির মাধ্যমে জীবাণুু বের হয়ে যায় শরীর সুস্থ রাখে।
হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে দু’জন লোক হাঁচি দিল। তিনি তাদের একজনের হাঁচির জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বললেন; কিন্তু অন্যজনের জবাব দিলেন না। তিনি যার হাঁচির জবাব দেননি সে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসুল (সা.), আপনি তার হাঁচির জবাব দিলেন কিন্তু আমার হাঁচির জবাব দেননি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, সে তো (আলহামদুলিল্লাহ বলে) আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছে; কিন্তু তুমি তো আলহামদুলিল্লাহ বলনি। (তিরমিজি, হাদিস : ২৭৪২)।
এরপরে বলা হয়েছে বাথরুম থেকে আসার পরে ভালো মতো হাত ধোয়ার কথা। মুসলমানমাত্রই বাথরুম থেকে এসে হাত ধোয়। কেউ কেউ অজু করে। রাসুলের সুন্নাহ মেনে অজু করলে হাতে ময়লা থাকার কথা নয়। খাবার আগে হাত ধোয়া সুন্নত। করোনার বিস্তার ঠেকাতে যে কয়টি সতর্কতামূলক কাজের কথা বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন। সব কয়টিই রাসুলের সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।
সুন্নাহ মোতাবেক জীবনযাপন হোক। করোনা পালাবে। বিস্তার রোধ হবে। রোগ দেন আল্লাহ ভালোও করবেন তিনি। বিশ্বাসটা এমন হতে হবে। অসুখ-বিসুখ দিয়ে আল্লাহ পরীক্ষা করেন। তাই অসুখ হলে ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে। চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। চিকিৎসা নেয়া সুন্নত। পাশাপাশি আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে হবে। হতে পারে এটা মানুষের কৃতকর্মের ফসল।
জীবনটা রাসুল (সা.) এর সুন্নাহ মোতাবেক সাজাতে হবে। অবশ্যই এতেই মানুষের জন্য কল্যাণ। গুজবে কান নয়। যা সত্য তাতে সর্বোচ্চ কল্যাণ। সেটা হলো আল্লাহ ও রাসুল (সা.) নির্দেশিত জীবনযাপন। এর বাইরের জীবন দৃশ্যত চাকচিক্যময়। কিন্তু আসলে কল্যাণকর নয়। সুখ, সমৃদ্ধি, পরিতৃপ্তিহীন।