করোনা উপসর্গ নিয়ে দর্শনার বদরের মৃত্যু, বাড়ি লকডাউন!

57

চুয়াডাঙ্গার তিনসহ কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহের আরও ৪০ জনের রিপোর্ট পজিটিভ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক বৃদ্ধর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটের ইয়োলো জোনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বৃদ্ধ দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানার শ্যামপুর গ্রামের মৃত দিদার উদ্দীনের ছেলে বদর উদ্দীন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শামীম কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এদিকে, চুয়াডাঙ্গায় এক নারীসহ নতুন তিনজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল সোমবার রাত নয়টায় জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২১৫ জন। গতকাল কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে চুয়াডাঙ্গার নতুন ৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩ জনের রিপোর্ট পজিটিভ ও ৬ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। গতকাল আক্রান্তরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তালতলা গ্রামের ২২ বছর বয়সের এক নারী, জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের একজন, দামুড়হুদা উপজেলার মোবারক পাড়ার একজনসহ মোট তিনজন। গতকাল চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ১৮টি নমুনা সংগ্রহ করেছে। সদর উপজেলা থেকে ১৩টি ও আলমডাঙ্গা উপজেলা থেকে ৩টি নমুনাসহ সংগৃহীত নয়টি নমুনা পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবের তথ্যমতে, গতকাল চুয়াডাঙ্গার নতুন ৯টি, মেহেরপুরের ২৫টি, ঝিনাইদহের ৬৭টি, কুষ্টিয়ার ১৪৪টি, নড়াইলের ২২টি নমুনাসহ মোট ২৭০টি নমুনা পরীক্ষা করে চুয়াডাঙ্গায় ৩ জনের, মেহেরপুরের ২ জনের, ঝিনাইদহের ১০ জনের, কুষ্টিয়ার ২২ জনেরসহ মোট ৩৭ জনের শরীরে নতুন করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল নড়াইলের ২২টি নমুনার সবকটি রিপোর্টই নেগেটিভ আসে। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, নড়াইলসহ মোট ৯ জনের ফলোআপ রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শামীম কবির জানান, ‘জেলায় নতুন আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে সদর উপজেলা একজন, দামুড়হুদা উপজেলার একজন ও জীবননগরের একজন। আক্রান্তদের শারীরিক খোঁজখবর নিয়ে তাঁদেরকে হোম আইসোলেশন ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে।’
গতকাল চুয়াডাঙ্গায় নতুন ১০ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ২৩১ জন। গতকাল সুস্থ হয়েছেন জীবননগর হোম আইসোলেশন থেকে ৪ জন ও আলমডাঙ্গা হোম আইসোলেশন থেকে ৬ জন। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জেলায় এখন পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ২ হাজার ১০১টি। প্রাপ্ত ফলাফল ১ হাজার ৯৭৬টি। করোনা শনাক্ত হয়েছে ২১৫ জনের, করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে ১ হাজার ৯৬৬ জনের। সুস্থ ১৩১ জন ও মৃত্যু ২ জন।
অন্যদিকে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় পরিবারের সদস্যরা বদর উদ্দীনের শরীরে ব্যথা, জ্বর ও বমি নিয়ে তাঁকে জরুরি বিভাগে নেয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর শরীরে করোনা উপসর্গ দেখে হাসপাতালের ইয়োলো জোনে ভর্তি রাখেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের শরীরে করোনা উপসর্গ থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। গতকালই স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাঁর দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শামীম কবির বলেন, শরীরে ব্যথা, জ্বর ও বমি করোনা উপসর্গ নিয়ে সকালে ওই বৃদ্ধকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। করোনা উপসর্গ পরিলক্ষিত হওয়ায় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালের আইসোলেশনের ইয়োলো জোনে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং করোনা প্রটোকলে দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান কাজল জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাঁর দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং মৃত ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।