করোনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যু

18

যতই দিন যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৬০০ জনের। করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন কয়েক শো। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হচ্ছে- বিদেশেও দীর্ঘ হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুর মিছিল। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাস কমিউনিটি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী বুধবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিদেশের মাটিতে ১ হাজার ২৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। সৌদি আরবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত শুধু সৌদি আরবেই করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৪১৫ জন বাংলাদেশির। বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাসের ঝুঁকির মুখে রয়েছেন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ ছাড়া সেখানে আরও কয়েকশ বাংলাদেশি নাগরিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সৌদি আরবের পর সবচেয়ে বেশি প্রবাসী নাগরিক মারা গেছেন যুক্তরাজ্যে। সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩০৬ বাংলাদেশি। এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২৭২ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০৪, কুয়েতে ৪৫, ওমানে ২০, কাতারে ১৮, ইতালিতে ১৪, কানাডায় ৯, বাহরাইনে ৯, সুইডেনে ৮, ফ্রান্সে ৭, স্পেনে ৫, লিবিয়ায় ১, পর্তুগালে ১, গাম্বিয়ায় ১, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১, মালদ্বীপে ১ ও কেনিয়ায় ১ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সিঙ্গাপুরে এই পর্যন্ত ২৬ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে সেখানে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এই সংবাদ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যারা প্রবাসে মারা গেছেন আত্মীয়স্বজনরা তাদের লাশ পর্যন্ত দেখতে পেলেন না। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে? উলেস্নখ্য, করোনাভাইরাস মহামারিতে সঙ্কটে পড়েছে গোটা বিশ্ব। তাই এর প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী দেশে ফিরে এসেছেন। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে করোনা মহামারি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিদেশে ফেরত যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে প্রত্যাগত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং তাদের পরিবারের উপার্জন অনেকাংশে কমে যাবে। যদিও এর মধ্যে কয়েকশ প্রবাসী বাঙালি দেশ থেকে চলেও গেছে। আবার অনেকেই যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। এটা সত্য, বিদেশে প্রবাসীরা অনেক কষ্ট করে অর্থোপার্জন করে। এর ফলে সচল রয়েছে তাদের পরিবার এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহ। অথচ বিদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যুবরণ করতে হলো। এটা কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই, অর্থনীতির সবচেয়ে সুবিধাজনক খাত হলো রেমিট্যান্স। দেশে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রবাসীদের অবদান ও ত্যাগ অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের প্রবাসীরা মূলত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক। করোনার কারণে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কমে গেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে কাজের পরিধি কমে যাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য নেতিবাচক সংবাদ। অথচ করোনায় সেখানেই সবচেয়ে বেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। প্রবাসীরা যদি ঠিকমতো রেমিট্যান্স পাঠাতে না পারে, দেশের অর্থনীতির অবস্থা আরও নাজুক অবস্থায় পড়বে। সুতরাং এ ব্যাপারে সরকারের নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রবাসে যারা মারা গেছেন তাদের পরিবারের পাশে সরকারের দাঁড়ানো উচিত। আমরা এমনটাই প্রত্যাশা করছি।