করোনায় থমথমে চুয়াডাঙ্গা

32

নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনা আতঙ্কে থমথমে চুয়াডাঙ্গা শহর। গতকাল মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণচাঞ্চল্য ছিল নিষ্প্রভ। চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, শহীদ রবিউল ইসলাম সড়ক, সদর হাসপাতাল সড়ক, কোর্ট রোডসহ শহরের প্রধান প্রধান স্থানগুলো ছিল জনসমাগমমুক্ত। অফিসপাড়াতেও দেখা যায়নি তেমন কর্মচাঞ্চলতা। এদিকে, করোনাভাইরাসের শঙ্কায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। করোনা আতঙ্কে একেবারে থমথমে ১০০ শয্যার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল। জরুরি রোগী ছাড়া হাসপাতালে আসছেন না তেমন কেউ। গতকাল মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে মাত্র ১৬৬ জন এবং জরুরি বিভাগে ৮০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে নারী, পুরুষ, শিশুসহ মাত্র ৪২ জন। তাদের মধ্যে আবার ভর্তির কিছুক্ষণ পর ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে অনেকে। এ ছাড়া, শহরে প্রবেশ করা দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহনের সংখ্যাও ছিল তুলনামূলক কম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চলমান করোনা আতঙ্কে মানুষেরা ছিল ঘরমুখী। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষেরা শহরে তেমন বের হননি। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রসাশন কর্তৃক সকল প্রকার দোকান, শোরুম, চায়ের দোকান প্রভৃতি সেসব স্থানে জমায়েতের সম্ভাবনা আছে, সেসব দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ আসায় আগেভাগেই শহর কিছুটা হয়ে পড়ে নিষ্প্রভ। অনেককে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাটাকা সেরে দ্রুত বাড়ি ফিরতে। এ ছাড়া, শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করায় সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও তেমন দেখা মেলেনি শহরে। দূরপাল্লার গণপরিবহণে ও রেলস্টেশনও যাত্রীর সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। রিকশা ও অটোচালকদের দেখা গেছে অনেকটা যাত্রীশূন্য ফাঁকা রিকশা-ভ্যান নিয়ে শহরে ঘোরাফেরা করতে।
শহরের একজন রিকশাচালক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আজ শহর ফাঁকা, তেমন যাত্রী নেই। মানুষ করোনা আতঙ্কে বাইরে তেমন বের হচ্ছে না। আজ তেমন ভাড়া পাইনি। আমরা দিন আনি দিন খাই মানুষ। রোজগার নাই। আমাদের সংসার চলবে ক্যামনে?’
তবে কাঁচাবাজারের চিত্র ছিল কিছুটা ভিন্ন। মানুষের কেনাকাটা করতে দেখা গেছে বাজারে। অনেকে সব দোকানপাট, প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সদাইপাতি আগেই কিনে রাখছেন। কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা হামিদ উল্লাহ নামের একজন ক্রেতা জানান, ‘ করোনা আতঙ্কে বাড়ি থেকে তেমন বের হচ্ছি না। কিন্তু বাজারে আসতে হলো। কী আর করা, খেতে তো হবে।’
এদিকে, গতকাল হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল মাত্র ৬ জন, মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ৮ জন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২ জন, পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ৩ জন, শিশু ওয়ার্ডে ৫ জন ও গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল ৮ জন রোগী। ভর্তি রোগীর সঙ্গে কমেছে স্বজনের সংখ্যা। কোনো কোনো রোগীকে একা একাই হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। হাসপাতলের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে মাত্র ৬২ জন পুরুষ, ৭৪ জন নারী ও ৩০ জন শিশু। যেখানে অন্য সময় এক দিনে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে থাকে সাধারণত ছয় শতাধিক রোগী। হাসপাতালের নিচতলায় মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে এক রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স সেফালি খাতুন, তাঁর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা আতঙ্কে হাসপাতালে দিন দিন রোগীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। কিছু দিন আগেও এ ওয়ার্ডের মেঝেতেও ঠাঁই মেলেনি অনেক রোগীর আর এখন ফাঁকা পড়ে আছে বিছানা।’ রেবা বেগম নামের অন্য এক সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, ‘আমরা করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেও সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমরা মনে করি, এটা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। যদিও এখন ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা একেবারে কমে গেছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শামীম কবির বলেন, ‘করোনা আতঙ্কে দুই-তিন দিন ধরে রোগীরা কম আসছেন হাসপাতালে। যাঁরা আসছেন, তাঁরা জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যাচ্ছেন। খুব জরুরি না হলে কোনো রোগীই হাসপাতালে ভার্তি থাকতে চাচ্ছে না। তবে আমাদের চিকৎসক ও নার্সরা সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে।’