করোনায় আর্থিক বিপর্যয়

29

মানুষ বাঁচানোর পরিকল্পনা চাই
দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে করোনাভাইরাস। কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। অসংখ্য বেকারের দেশে নতুন করে বেকার বেড়েছে। মহামারির প্রভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই করা হচ্ছে। বেতন কমানো হচ্ছে। এদিকে দিনমজুরদেরও এখন সুনির্দিষ্ট কোনো কাজ নেই। বাসাবাড়ি ও মেসে কাজ হারিয়েছে নারী গৃহকর্মীরা। অনেককেই বেছে নিতে হয়েছে বিকল্প কর্মস্থান। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির একটি গবেষণায় বলা হচ্ছে, সাধারণ ছুটির কারণে বহুমাত্রিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে অনানুষ্ঠানিক খাতের ব্যবসাও। কাজ না থাকা, সড়কে ভাসমান দোকানে বিক্রি সংকুচিত হয়ে আসা, এমনকি ভিক্ষার পরিমাণ কমে আসায় ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। মধ্যবিত্ত অনেকেই বাসাভাড়ার চাপে তাদের পরিবার পাঠিয়ে দিচ্ছে গ্রামে। পরিবারপ্রধান থাকছেন মেস ভাড়া নিয়ে। অবশ্য কী পরিমাণ মানুষ করোনার প্রভাবে ঢাকা ছেড়েছে তার কোনো পরিসংখ্যান নেই সরকারি কোনো দপ্তর বা সিটি করপোরেশনের কাছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনার কারণে মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে সমাজের শ্রেণিকাঠামোতে পরিবর্তন ঘটে গেছে বলে অর্থনীতিবিদদের অনুমান। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির একটি জরিপের তথ্য বলছে, সাধারণ ছুটির ৬৬ দিনে দেশের তিন কোটি ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার ২৭১ জন লোক চাকরি বা উপার্জন হারিয়েছেন। এদিকে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিআইডিএসের একটি গবেষণা বলছে, করোনাকালে দেশে নতুন করে এক কোটি ৬৩ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প নিয়ে বিআইডিএসের আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার কারণে যে দুই মাস দেশে সাধারণ ছুটি ছিল, তাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ক্ষতি হয়েছে ৯২ হাজার কোটি টাকা। প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে গত তিন মাসে অন্তত এক লাখের বেশি মানুষের যাওয়া আটকে গেছে। তাঁদের অর্ধেকের বেশি ছুটি কাটাতে দেশে এসে ফিরতে পারেননি। অন্যদিকে মহামারি পরিস্থিতি ঠিক হওয়ার আগ পর্যন্ত সৌদি আরব নতুন করে আর বিদেশি শ্রমিক নেবে না বলে দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। অর্থাৎ এই বিপুল জনশক্তির চাপও অর্থনীতিকে সইতে হবে। বিআইডিএসের গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনার কারণে গত চার মাসে যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে, তাদের দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে আসতে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি তেমন কাজে আসবে না। কারণ বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির টার্গেট গ্রুপ ঠিক নেই। তাহলে এখন বিকল্প খুঁজে বের করতে হবে। সবার আগে দরকার হবে একটি পরিসংখ্যান। কী পরিমাণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নতুন করে না সাজালে মানুষ বাঁচানো কঠিন হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে আসবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।