কমিশন সিন্ডিকেটে ঠকছে রোগীরা!

125

চুয়াডাঙ্গায় ডাক্তারের চেম্বারেরই রয়েছে যাবতীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা করাতে কমিশন সিন্ডিকেটের মধ্যে পড়েছে ডা. আবুল হোসেনের পারসোনাল চেম্বারের চিকিৎসা নেওয়া রোগীরা। ডা. আবুল হোসেনের স্ত্রীর নামে নিজ বাড়িতেই রয়েছে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। চেম্বারে আসা রোগীদের রোগ নির্ণয়ের জন্য যাবতীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। তবে নেই এক্স-রে মেশিন। এক্স-রে মেশিন না থাকায় এক্স-রে পরীক্ষার জন্য রোগীদের অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠাচ্ছেন সাকিব ফার্মেসির পরিচালক আব্দুস সবুর। সর্ম্পকে আব্দুস সবুর ডা. আবুল হোসেনের শ্যালক। তাঁর ফার্মেসি চেম্বারের মধ্যে হওয়ার সুবিধা নিয়ে আব্দুস সবুর রোগীদের জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন, এমন অভিযোগ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের। শুধুমাত্র ডা. আবুল হোসেনের চেম্বারের রোগীরাই নয়, চুয়াডাঙ্গার প্রায় সব চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সেবা নেওয়া রোগীরায় পড়ছেন এ কমিশন সিন্ডিকেটের মধ্যে।
জানা যায়, গত শুক্রবার ডা. আবুল হোসেনের চেম্বারে চিকিৎসা নিতে যান চুয়ডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিহি কেষ্টপুর গ্রামের হৃদরোগে আক্রান্ত মোহাম্মদ আলী (৭০) নামের এক রোগী। এ সময় রোগ নির্ণয়ের জন্য ডা. আবুল হোসেন তাঁর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন। সেখানেই যাবতীয় পরীক্ষা করা হয়, তবে এক্স-রে ব্যবস্থা না থাকায় আব্দুস সবুর তাঁদেরকে সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বলেন। সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলে এক্স-রে এর জন্য ৬ শ টাকা লাগবে বলে জানান। কিছু টাকা কম নিয়ে পরীক্ষা করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে, যা মূল্য তাই দেওয়া লাগবে, কোনো কম করা যাবে না, এমন কথা বলে সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালক।
আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর স্বজনেরা বলেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষ এত কিছু বুঝি না। যে কারণে এভাবে ঠকিয়ে টাকা নিয়ে নিচ্ছে, আমরা বুঝতেও পারছি না। টাকা নিচ্ছে এক জায়গা থেকে, আর পরীক্ষার জন্য পাঠাচ্ছে অন্য জায়গায়।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কের সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক শাহিদুর রহমান বলেন, ‘ডা. আবুল হোসেনের বাড়ির চেম্বারে লেখা প্রেসক্রিপসনে আমরা কোনো এক্স-রে পরীক্ষার যা মূল্য তাই নিতে হয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরীক্ষার টাকা রোগীদের থেকে চেম্বার থেকেই নিয়ে নেওয়া হয়। এই সব পরীক্ষার টাকা পরে আমাদের কাছে পৌঁছায়। কখনো কখনো টাকা এখানেই দিয়ে যায়, তবে আব্দুস সবুরকে তাঁর কমিশন দিতে হয়।’
সাকিব ফার্মেসির পরিচালক আব্দুস সবুর বলেন, ‘আমাদের এখানে এক্স-রে মেশিন না থাকায় রোগীদের এক্স-রে পরীক্ষার প্রয়োজন হলে তাঁদেরকে নিকটবর্তী বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। তাঁদের সাথে আমাদের ব্যবসায়ীক সম্পর্ক রয়েছে। যে কারণে যাবতীয় পরীক্ষার ব্যয় একবারে এখান থেকে নেওয়া হয়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. আবুল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি। রোগীরা কোথা থেকে পরীক্ষা করাবেন, তা রোগী ও তাঁর স্বজনের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। নির্ধারিত কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকেই পরীক্ষা করাতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। রোগী চাইলে যেকোনো ডায়াগনস্টিক থেকেই পরীক্ষা করাতে পারে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সভাপতি শহিদুল হক বিশ্বাস বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গাতে বিভিন্ন ডায়াগনস্্িটক মালিক দু একটি করে পরীক্ষার যন্ত্র নিয়ে ডায়াগনস্টিক পরিচালনা করছে। যে কারণে যে পরীক্ষাটি এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হয় না, সে পরীক্ষার জন্য রোগীকে অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। তবে এর মধ্যেও কমিশন নিয়ে রোগী দেওয়া-নেওয়ার বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। যদি কেউ এমন করে থাকেন, তা সঠিক নয়। বিষয়টি অতি দ্রুত খতিয়ে দেখব।’