কথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের উৎখাতের ঘোষণা এমএনএসের

128

বিশ্ব প্রতিবেদন
কথিত অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা স্টাইলে (এমএনএস স্টাইল) ভারত থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা নেতারা। তাদের এমন হুমকি সম্বলিত হোর্ডিং বা রাস্তার পাশে প্রদর্শিত বিশাল বিজ্ঞাপন বোর্ডে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে এমএনএস নেতাদের ছবিও যুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশি কথিত অবৈধ অভিবাসীদের হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে- গেট আউট বা বেরিয়ে যাও। এমএনএসের নেতাদের এমন হোর্ডিং প্রদশিত হচ্ছে মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ের কাছে পানভেলে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন হিন্দুস্তান টাইমস, ডেকান হেরাল্ড, মুম্বই মিরর, ডিএনএ ইন্ডিয়া সহ বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম। এমএনএসের অবৈধ অভিবাসী বিরোধী র‌্যালি হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ৯ই ফেব্রুয়ারি। এর পরিকল্পনা নিয়েছেন এমএনএসের প্রধান রাজ থাকরে। জানুয়ারিতে ভারত থেকে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি মুসলিমদের উৎখাতের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। এরপরে এই র‌্যালি আয়োজন করা হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)তেও তিনি সমর্থন দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যারা কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের বিরোধিতা করে তার প্রতিবাদে তিনি ৯ই ফেব্রুয়ারি আজাদ ময়দানে বিক্ষোভের ডাক দেন। স্থানীয় এক এমএনএস নেতা মহেশ যাদব বলেছেন, বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা এ অঞ্চলে বেড়েই চলেছে। কিন্তু আমরা যেমনটা প্রত্যাশা করেছিলাম, তেমন পদক্ষেপ এখনো শুরু হয় নি। তিনি আরো বলেন, মহারাষ্ট্র এবং হিন্দু ধর্মের জন্য যদি আইন আমাদের হাতে তুলে নিতে হয়, তবু আমরা এটা নিশ্চিত করবো যে, এখান থেকে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি মুসলিমরা পালিয়েছে। মুম্বইয়ের রাজ সাহেবে ৯ই ফেব্রুয়ারি র‌্যালি হবে। তার আগেই যদি প্রশাসন পদক্ষেপ নেয় তো ভাল। সুধীর নাভলে নামে আরেক নেতা বলেছেন, কম মজুরিতে কাজ করে বলে বাংলাদেশি অবৈধ শ্রমিকদের কাজে নেয়া হয় বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাদেরকে থাকার জায়গা দেয়া হয়। খাবার দেয়া হয়। এ ছাড়া তারা ভুয়া কাগজপত্রের ওপর ভিত্তি করে ভারতে বসবাস করছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব অবৈধ অভিবাসীকে পানভেল থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। না হলে তাদেরকে আমরা এমএনএস স্টাইলে শিক্ষা দেবো।
এ বিষয়ে পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (জোন ২) অশোক দুধে বলেছেন, তারা বাংলাদেশি সহ অবৈধ সব অভিবাসীর বিরুদ্ধেই নিয়মিত ব্যবস্থা নিচ্ছেন। গত দু’বছরে ওই শহর থেকে ৭৭জন বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু কাউকেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেয়া হবে না। যেকোন পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত।
হিন্দুস্তান টাইমস লিখেছে, ২০১৮ সালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৩ জন অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে। ফেরত পাঠানো হয়েছে ১৮ জনকে। তবে ২০১৯ সালে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৪৭ ও ৫৯। পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় কুমার বলেছেন, শহরে অবৈধ অভিবাসীদের খুঁজে বের করার জন্য একটি বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে পুলিশকে। এমন ব্যক্তিবিশেষের অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাই আমাদেরকে শিকড়ে আঘাত করতে হবে। বিশেষ ওই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে যৌথভাবে জোন-২ এবং ৩-এ। এতে যুক্ত হয়েছেন পুলিশ ও পাসপোর্ট ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।