কক্সবাজারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৮ জন নিহত

95

সমীকরণ প্রতিবেদন:
কক্সবাজার টেকনাফে র‌্যাব-বিজিবির সঙ্গে রোহিঙ্গা ডাকাত জকির বাহিনীর পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আট জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পাহাড়ে অবস্থানরত জকির বাহিনীর সাত রোহিঙ্গা ডাকাত ও বিজিবি’র সঙ্গে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ এক মাদকপাচারকারী নিহত হয়েছেন। নিহতরা সকলেই রোহিঙ্গা বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত রোববার দিবাগত গভীর রাত থেকে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া-নয়াপাড়া ২৬ ও ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পশ্চিমের পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে জকির বাহিনীর ফারুক, নুরাইয়া, ইমরান ও আবদুল্লাহ নামে চার জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও আরো তিন জনের পরিচয় এখনো সনাক্ত করা যায়নি।
কক্সবাজার ক্যাম্পের র‌্যাব-১৫ এর উইং কমান্ডার মেজর আজিম আহমেদ জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ে স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা ডাকাত জকির বাহিনীর অবস্থানের খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি চৌকস দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে ডাকাতরা। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর গুলাগুলি থেমে গেলে ঘটনাস্থলে তল্লাশীর এক পর্যায়ে সাতজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত সকলেই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী জকির বাহিনীর সদস্য বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা। ঘটনাস্থল হতে তিনটি বিদেশী পিস্তল, সাতটি ওয়ান শুটার গান ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। টেকনাফ উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক সাকিয়া হক জানান, নিহতদের শরীরে চার থেকে পাঁচটি করে গুলির চিহ্ন রয়েছে। র‌্যাবের আহত তিন সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২২ শে আগস্ট রাতে একদল রোহিঙ্গা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা এলাকায় ওর্য়াড যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় ওমর ফারুকের পিতা আব্দুল মোনাফ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার জের ধরে প্রধান আসামি রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদ, মো. শাহ, আব্দু শুক্কুর ও নেছার আহমদ নেছার পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এদিকে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে র‌্যাবের অভিযানে সাতজন ডাকাত নিহতের খবরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অনেকে এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। আবার অনেকে ব্যাপক গুলাগুলির শব্দে ভীত হয়ে পড়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, র‌্যাবের সঙ্গে সংঘঠিত ঘটনার ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। লাশগুলো কক্সবাজার মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী জকিরকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার করা হবে। সন্ত্রাসি যেই হোক তাদের রক্ষা নেই।
অপরদিকে একইদিন ভোররাতে নয়াপাড়া জাদিরখাল এলাকায় বিজিবির সঙ্গে মাদকপাচারকারীদের বন্ধুকযুদ্ধে এক মাদক পাচারকারী নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে দেড় লাখ পিস ইয়াবা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অজ্ঞাত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ মাদকপাচারকারীকে উদ্ধার করলেও স্থানীয়রা জানান, নিহত ব্যক্তি আকিয়াব জেলার মংডু চালিপ্রাং এলাকার জাফর আলমের ছেলে নুর আলম (৩০)। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সাল হাসান খান জানান, মিয়ানমার থেকে নাফ নদী হয়ে ইয়াবার একটি বিশাল চালান প্রবেশের গোপন সংবাদ পেয়ে নয়াপাড়া বিওপির বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল জাদিমোড়া খাল সংলগ্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর মাদকের চালান নিয়ে নৌকাযোগে কয়েকজন ব্যক্তি নাফনদীর উপকূল দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করলে মাদক কারবারীরা গুলি ছোড়ে। এ সময় বিজিবির তিন জন সদস্য আহত হন। জানমাল রক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি করে। উভয়পক্ষের মধ্যে চার-পাঁচ মিনিট গুলি বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে গুলাগুলি থামলে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি’র কর্মকর্তারা।