ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি শওকত খুন : আটক ১

293

IMG_20170422_144735

আলমডাঙ্গার রেল জগন্নাথপুরে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধে চাচাতো ভাইয়ের হাতে
ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি শওকত খুন : আটক ১
খ.ম হামিদুল ইসলাম আজম/সোহেল সজিব: জমাজমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোদের জের ধরে আলমডাঙ্গা উপজেলার রেলজগন্নাথপুর গ্রামের মাঠে নিজ ভুট্টাক্ষেতে ঘাস কাটার সময় আপন চাচাতো ভাই মুনতাজের ধারালো অস্ত্রের কোপে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শওকত আলী ফারাজী খুন।
আলমডাঙ্গা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আলামিন হোসেন জানান, হত্যার শিকার শওকত আলী ফারাজীর স্ত্রী রমাজান বাদী হয়ে গতকাল বেলা ১১টার দিকে মৃত ওয়াজ আলীর পুত্র মুনতাজ আলী ফারাজী (৫০) ও নাজিম উদ্দিনের পুত্র নাজমুল হোসেন (৩০) এবং জামিরুল হোসেন (২৭) কে আসামী করে আলমডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ৩১/১৭। এরমধ্যে গতকালই নাজমুলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এদিকে অপর দু’আসামী পলাতক রয়েছে বলেও জানান।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জানান, গতকাল বেলা ১০টার দিকে থানার রেলজগন্নাথপুর গ্রামের মৃত নেওয়াজ আলী ফারজীর ছেলে ও একই গ্রামের ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শওকত আলী ফারাজী (৬০) তার নিজ গ্রামের বড় সোনাগাড়ীর মাঠে নিজ ভূট্টাক্ষেতে ঘাস কাটছিল। এসময় বেলা সাড়ে ১০টার দিকে একই গ্রামের শওকতের  আপন চাচাতো ভাই মুনতাজ ও তার সঙ্গীরা মিলে শওকতের উপর হামলা হামলা করে এবং তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে পালিয়ে যায়।
তিনি আরো জানান, এই হত্যার পিছনে কারণ হিসাবে ,শওকতের সাথে মুনতাজ গংদের জমাজমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সে অনুসারে বিরোধের জেরে এই খুন হতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে। তবে, হত্যার মুল কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যহত রেখেছে।
নিহত শওকতের স্ত্রী রমাজান জানান, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গ্রামের মানুষরা মাঠে কাজ করতে যেয়ে দেখে গ্রামের বড় সোনাগাড়ীর মাঠে আমাদের নিজ ভূট্টাক্ষেতে আমার স্বামী শওকত আলীর রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে । এখবর পেয়ে আমি ও আমার পরিবারের সকলে মাঠে যেয়ে দেখি আমার স্বামীর লাশ পড়ে আছে।  আমরা পুলিশের খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আমার স্বামীর লাশ উদ্ধার করে। তিনি আরো জানান, অনেক দিন ধরে তার চাচাতো দেবর ভাসুরদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তবে, তিনি এও বলেন যারাই তার স্বামীকে খুন করেছে আমি তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।
পুলিশ ভুট্টা ক্ষেত থেকে বিএনপি নেতা শওকত আলীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। আজ রবিবার পুলিশ  শওকতের লাশের ময়না তদন্তশেষে তার পরিবারের কাছে দাফনের জন্য তার লাশ হস্তান্তর করবে ।
এঘটনার পর পর চুয়াডাঙ্গা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  তরিকুল ইসলাম ( চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সার্কেল ) ও আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আকরাম  হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জানান, খুব দ্রুতই এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সকলকে গ্রেফতার করা হবে।