এ কেমন নির্মমতা!

12

দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করুন
মানবিক মূল্যবোধ এখন সত্যিকার অর্থেই প্রশ্নের মুখে। মানুষেরই হাতে ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে মানবতা। একের পর এক ঘটে চলেছে নৃশংস সব ঘটনা। ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার পর প্রশ্ন জাগে, সেই প্রাচীন যুগেও কি এত নির্মম ছিল মানুষ? মানুষ কী করে এত নিষ্ঠুর, এত পাশবিক হতে পারে? এ তো মনে হচ্ছে এক ভয়ংকরের পূর্বাভাস। সমাজকে যেন এমন এক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখানে মানবিকতার কোনো স্থান থাকবে না, যেখানে অমানবিক শক্তিই রাজত্ব করবে। মানুষের মধ্যে ন্যূনতম মানবিক বোধও থাকবে না, এমন এক সামাজিক অবস্থার দিকেই যেন যাচ্ছি আমরা। গতকাল সব সংবাদপত্রেই গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত একটি খবর যেন তেমন কথাই বলছে। খবরে বলা হচ্ছে, কুমিল্লার চান্দিনায় মো. নাছির উদ্দিন নামের এক দোকানদারকে কুপিয়ে টুকরা করে হত্যার পর তাঁর টুকরা করা দেহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেড় কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে যায় ঘাতকরা। হতভাগ্য এই যুবক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনার নাওতলা মাদরাসাসংলগ্ন একটি চা দোকানে ব্যবসার পাশাপাশি বাবার অবর্তমানে নৈশপ্রহরীর কাজ করতেন। গত রবিবার রাতে বাবা অসুস্থ থাকায় তাঁর পরিবর্তে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করেন নাছির। তাঁর বাবা সোমবার ভোরে দেখেন দোকান খোলা থাকলেও তাঁর ছেলে নেই। দোকানের ভেতর রক্তের দাগ। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ছিল। মহাসড়কের দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মরদেহের অংশ পাওয়া যায়। সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, নাছিরকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করার পর লাশ কয়েক টুকরা করে মহাসড়কে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে বিভিন্ন যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে লাশের টুকরাগুলো। নাছিরকে যারা হত্যা করেছে তারা ঠাণ্ডা মাথার খুনি। অসহায় এ যুবককে হত্যা করেই থেমে থাকেনি তারা। তাঁর লাশ কয়েক টুকরা করার পর মহাসড়কে ফেলে দিয়েছে। মহাসড়কে চলা যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়েছে লাশের টুকরাগুলো। প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষ কী করে এত নিষ্ঠুর-নির্মম হতে পারে। আমাদের প্রযুক্তি এগিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বেড়েছে। আমরা আশা করব, অবিলম্বে নাছিরের খুনিদের আইনের আওতায় আনা হবে। দ্রুত বিচার করে নিশ্চিত করা হবে শাস্তি।