এরেং আলীর কবিতায় ৩৬ বছর পর আপন হয় বউ!

34

আওয়াল হোসেন:
দর্শনায় ভোর হলেই একদল মানুষ ঘুম থেকে উঠেই শরীর ফিট রাখতে হাটতে বেরিয়ে পড়েন। এই দলের প্রায় ১০-১২জন সদস্য প্রত্যেকদিন ভোরে হাটাহাটির পর নিজেদের মধ্যে কিছুক্ষণ আড্ডা দেন তারপর যার যার বাড়ি ফেরেন। ১০-১২ জনের এই দলটি নিয়মিত হাটাহাটি করতে করতে ইতিমধ্যে একটি সংগঠনও দাঁড় করিয়েছেন। যে সংগঠনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভোরের সাথী প্রবীণ দল’। তবে এই সংগঠনের সব সদস্য কিন্তু প্রবীণ নন, নবীন ও মধ্যবয়সীরাও আছেন। সাংস্কৃতিক কর্মী ও কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিরা এই সংগঠনের সদস্য। এই সংগঠনে দর্শনার এরেং আলী নামের প্রবীণ এক ব্যক্তি আছেন। যিনি একজন কবিও। প্রত্যেকদিন ভোরে সবাই হাটতে হাটতে কবি এরেং আলীর কবিতাও শোনেন। কিন্তু গত শনিবার ঘটল এক অবাক কাণ্ড। এই দলের সদস্য শৈলেন দাদা বউদিকে নিয়ে ভোরে হাটতে এসেই বললেন, তাদের নাকি আজ ৩৬তম বিবাহ বার্ষিকী। এসময় সবাই শৈলেন দম্পতিকে শুভেচ্ছা জানালেও কবি এরেং আলী একটি কবিতা শুনিয়ে বললেন তিনযুগ অর্থাৎ ৩৬ বছর পরেই বউ আপন হয়। শৈলেন দাদা আপনার বউ এবার আপনার আপন বউ হলেন। একথা শুনে সবাই হেসে গড়াগড়ি খেলেও শৈলেন দম্পতি এরেং আলীর দিকে আড় চোখে চেয়ে বললো সত্যিই তাই। কবি বললেন ঠিক তাই। এরপর ‘ভোরের সাথী প্রবীণ দল’-এর সদস্যরা শৈলেন দম্পতির বিবাহ বার্ষিকী পালনে মাতলেন। এসময় শৈলেন দম্পতি তাদের সাংসারিক জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন। সেদিন মনে হয়নি হাটেতে বেরোনো এই দলটির সদস্যরা কৈশর, যৌবন পেরিয়ে এখন প্রায় বার্ধক্যে উপনীত হচ্ছেন। যাহোক আরও অনেক দিয়ে নিজের বিয়ের ৩৬তম বছর কবে আসবে, কবে কবির কথা অনুয়ায়ী বউ আপন হবে তা ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফিরল সবাই। তবে এই শনিবারের ভোরটা শৈলেন দম্পতির ৩৬ বছরের মধ্যে সব থেকে স্মরণীয় ভোর হয়ে থাকবে, সেটা বলার অপক্ষো রাখে না। তবে ৩৬ বছর পর কেন বউ আপন হয়, তার উত্তর কিন্তু মেলেনি। আর মিলবেই বা কি করে, এটা কবি এরেং আলীর লেখা একটা কবিতার নাম মাত্র। তবে ৩৬ বছর পর বউ আপন হবে কবির এমন কথা শুনে শৈলন বাবু যে বিবাহ বার্ষিকী পালন করতে ওই কাক ডাকা ভোরে এমন একটা আয়োজন করলেন, যেটা দেখে মনে হয়েছে ওনার বউ বিয়ের দিন থেকেই ওনার খুব আপন। ওইদিনের ৩৬তম বিবাহ বার্ষিকীর আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন ভোরের সাথী দলের সদস্য দামুড়হুদা উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের রিজিওনাল কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান যুদ্ধ, ব্যবসায়ী ওবাইদুর রহমান, দর্শনা সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি হারুন অর রশিদ, দর্শনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আওয়াল হোসেন (আমি) ও সাবেক সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ, ব্যবসায়ী শাহাজাহান আলী, আলী হোসেন, মামুন, সাইফুল ইসলাম,আবুল কাশেম, নাহিদ ও রাজু প্রমুখ।