এমনিতেই করোনা আতঙ্ক, সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকি!

28

আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রোগীদের অসচেতনতায় বাড়বে সংক্রমণ

করোনা আক্রান্ত রোগীদের অশোভনীয় আচরণ
ব্যবহার্য টিস্যু ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র
খাবারের উচ্ছিষ্ট যাচ্ছে না ডাস্টবিনে
অস্বস্তি নিয়ে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সরা

রুদ্র রাসেল:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রোগীদের অসচেতনতায় হাসপাতাল এলাকায় দূষণ ছড়াচ্ছে। বিভিন্ন সময় চিকিৎসাধীন করোনা রোগীরা খাবার খাওয়ার পর উচ্ছিষ্ট খাবার, ওয়ান টাইম ব্যবহার্য খাবার প্লেট নির্দিষ্ট স্থানে না রেখে জানালা দিয়ে বাইরে ফেলছেন। আইসোলেশনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থুুথু, ব্যবহৃত টিস্যু পেপার নিচে ফেলছেন। এতে করে হাসপাতাল এলাকায় করোনা আতঙ্ক বেড়ে চলেছে।
করোনা মহামারিতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ৬ তলাবিশিষ্ট নতুন ভবনের উপরের তিনটি ফ্লোরকে করোনা রোগীদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে ষষ্ঠ তলায় করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের সেবায় চিকিৎসকেরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সাধারণ মানুষ সব সময় তাঁদের খোঁজখবরও নিচ্ছেন। মনোবল বৃদ্ধিতে নিয়মিত ফলসহ বিভিন্ন খাদ্য উপহারসামগ্রী প্রেরণ করছেন ডিসি-এসপিসহ নানা সংগঠন। করোনা রোগীদের এতো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া সত্বেও তাঁদের অশোভনীয় আচরণে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
হাসপাতালের আবাসিক এলাকার চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী বলেন, ‘আইসোলেশনের নিচ দিয়ে হেটে যাচ্ছি, এমন সময় আমার ঠিক সামনে একটি ব্যবহার করা টিস্যু পেপার পড়তে দেখলাম। বুঝতে বাকি রইল না এ টিস্যু পেপারটি এখানে কোথা থেকে আসল। আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত রোগীদের এমন আচরণ সত্যিই অশোভনীয়।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের একজন মেডিকেল অফিসার বলেন, ‘আমি নিজেই আইসোলেশনের সামনের জামগাছের ডালে একটি ওয়ান টাইম খাবার প্লেট আটকে থাকতে দেখেছি। এরপর থেকে জরুরি বিভাগে আসতে অস্বস্তি কাজ করে। না জানি কখন আমার গায়ের ওপরেই একটি টিস্যু বা খাবার প্লেট এসে পড়ে। আইসোলেশনে যারা আছেন, তাঁদের শালিনতার সঙ্গে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শামীম কবির বলেন, ‘প্রতিটি রোগীর বিছানার পাশেই একটি করে ছোট ডাস্টবিন দেওয়া হয়েছে। জানালা দিয়ে বাইরে কোনো কিছু না ফেলে সে বিষয়ে নিয়মিত তাঁদেরকে সচেতন করা হয়। তারপরও দু-একজন রোগী জানালা দিয়ে খাবার প্লেট ফেলছে বলে জানতে পেরেছি। এর পরপরই তাদেরকে পুণরায় সচেতন করা হয়েছে। আশা করছি, রোগীরা এমন আচরণের পুনরাবৃত্তি করবে না।’