গৃহকর্মী নির্যাতনের বিচার

495

শিশু গৃহকর্মী আদুরীর নির্যাতনকারী গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীকে যাবজ্জীবন কারাদ- প্রদান এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করে রায় দিয়েছেন আদালত। ঢাকার তিন নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়শ্রী সমদ্দার এ রায় দেন। নিন্ম আদালতের এ রায়কে যুগান্তকারী ও ন্যায়বিচার হিসেবে অভিহিত করা যায়। আমরা এ রায়কে স্বাগত জানাই। দেশে যে হারে শিশু নির্যাতন বাড়ছে, বিশেষত মেয়ে শিশু গৃহকর্মী, দৃষ্টান্তমূলক এ রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে তার লাগাম টেনে ধরা যাবে বলে আশা করা যায়।

সমাজে কিছু মানুষ গৃহকর্মী-শিশুশ্রমিক নির্যাতনে খড়গহস্ত। এজন্য নৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়কেই দায়ী করা যায়। উদ্বেগের বিষয়, মাত্র ১২ বছর বয়সী একটি শিশু গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতন করে তাকে মৃত ভেবে ডাস্টবিনে ফেলে রাখার পরও অনুতপ্ত হওয়ার লেশমাত্র দেখা যায়নি নির্যাতনকারীর মধ্যে। সাজা ঘোষণার পর নিজের পরিণতির জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর দোষারোপ করে ন্যূনতম মানবতাবোধ না থাকার প্রমাণই দিয়েছেন তিনি। অথচ তার উচিত ছিল দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সাজা মেনে নিয়ে নির্যাতিতা আদুরী ও তার পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়া। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চাকু দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে এবং আয়রনের ছ্যাঁকা দিয়ে আদুরীকে মারাত্মকভাবে জখম করার পর তাকে ডাস্টবিনে ফেলে দেন নদী।

আদুরীর ঘটনাটি আলোচিত হলেও প্রতিদিন এমন হাজারও আদুরী নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যেসব ঘটনার অধিকাংশই থেকে যায় অগোচরে। গৃহকর্মীরা শুধু দৈহিকভাবে নয়, আর্থিকভাবেও শোষণ-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আমরা মনে করি, ক্রমবর্ধমান নির্যাতন রোধে গৃহকর্মীর কাজটিকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া যেতে পারে। একইসঙ্গে শিশু গৃহকর্মী ও শিশু শ্রমিক নির্যাতনের মামলাকে দ্রুত বিচারের আওতায় রাখতে হবে। এ ধরনের নির্যাতন চালিয়ে প্রভাবশালীরা যেন পার পেয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। এটা অজানা নয়, প্রভাবশালী অপরাধীরা ভয়ভীতি, হুমকি, আপসরফা ইত্যাদির জন্য চাপ দিয়ে থাকে। আদুরীর মামলার ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটেছে। তবে সচেতন বাদী দৃঢ়সংকল্প থাকায় শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার পাওয়া গেছে। এ রায় কার্যকর হলে তা গৃহকর্ত্রীদের সচেতন করতে এবং অভাবের তাড়নায় কাজে নামা গৃহকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।