এক নতুন ‘সম্রাট’ পুতিন

59

বিশ্ব প্রতিবেদন
২০৩৬ সাল পর্যন্ত রাশিয়া শাসনের পথ সুগম করে নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তার এ পদক্ষেপ পাল্টে দিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশটির রাজনীতির ভূচিত্র। দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী ধনকুবের কনস্টান্টিন মালোফিভের কথায় তা সপষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে- রাশিয়া আপাতদৃষ্টিতে একটি রাজতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। মালোফিভ একজন জাতীয়তাবাদী ব্যবসায়ী। ক্রেমলিনের সঙ্গে তার ভালো যোগসাজশ রয়েছে। রয়েছে নিজের মালিকানাধীন একটি টিভি চ্যানেলও। বহু বছর ধরে রাশিয়ায় রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে আসছেন তিনি। সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সপ্তাহের পর, তিনি নিজের লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে কাছাকাছি আছেন। মালোফিভের কথায়, এই বিদ্যমান আপাত রাজতন্ত্র খুবই ভালো ব্যাপার। পুতিনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমরা যদি এখন তাকে প্রেসিডেন্ট না ডেকে, সম্রাট বলে ডাকা শুরু করি, তাহলে আমাদের সংবিধানেও খুব একটা পরিবর্তন আনতে হবে না। চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার রাজনৈতিক প্রবাহে বড় পরিবর্তন এসেছে। ৬৭ বছর বয়সী পুতিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, আরো ১২ বছর রাশিয়া শাসনের সুযোগ নিশ্চিত করেছেন। বুধবার রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সংবিধানের এক ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধনীটি এর আগের দিন পুতিনের পৃষ্ঠপোষকতায় নিম্নকক্ষে উত্থাপিত হয়েছিল। বিদ্যমান নিয়ম অনুসারে, কোনো ব্যক্তি টানা দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। কিন্তু সংশোধনীটি অনুসারে, এ নিয়ম অকার্যকর হয়ে পড়বে। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার বর্তমান মেয়াদ পূর্ণ হবে। চাইলে এরপর ফের নির্বাচনে লড়তে পারবেন তিনি। ক্রেমলিনের জন্য অবশ্য এ পদক্ষেপ সফল করার কঠিন অংশটুকুই বাকি রয়ে গেছে: রুশ জনগণের মধ্যে তাদের নতুন সম্রাটের জন্য গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করা।