একজনের ধন্যবাদ অন্যজন চুপচাপ

268

image_1701_261233সমীকরণ ডেস্ক: ক্ষমতাসীন দলে সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়ার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে অংশ নিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বেরিয়ে এসে সবাইকে জানিয়েছেন শুভেচ্ছা। তবে আওয়ামী লীগের গত দুই মেয়াদের সাধারণ সম্পাদক জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে মুখ খোলেননি। সাংবাদিকদের হাজারো প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে গেছেন ‘পরে একদিন’ কথা বলবেন জানিয়ে। শনি ও রোববার ২০তম জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য পরবর্তী নেতৃত্ব বেছে নেয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। গত ৩৫ বছর ধরে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসা হাসিনা আবারও সভাপতি নির্বাচিত হন এই কাউন্সিলে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে যে পরিবর্তন আসছে না, সে বিষয়ে সম্মেলনের আগে কোনো সংশয় ছিল না কারও। আলোচনা ছিল সাধারণ সম্পাদক পদের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে, সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোতে চলছিল গুঞ্জন। এরই মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের নেত্রীর সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলে খবর দেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। অন?্যদিকে সৈয়দ আশরাফ বলেন, নেতৃত্বে কে আসবে, তা কেবল শেখ হাসিনা ও তিনিই জানেন। গুঞ্জন সত্যি করে রোববার কাউন্সিল শেষে নির্বাচনী অধিবেশনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। ওই পদে সৈয়দ আশরাফই তার নাম প্রস্তাব করেন। বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক আশরাফ সভাপতিমণ্ডলীতে স্থান পান। রোববার সন্ধ?্যার ওই নাটকীয়তার পর কাদের বা আশরাফ কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ?্যমের সামনে আসেননি। ফলে সোমবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তাদের দুজনকে নিয়ে সাংবাদিকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। বৈঠক শেষে বেরিয়ে কাদের কেবল বলেন, ‘সবাইকে ধন্যবাদ, শুভেচ্ছা।’ এরপর কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, ‘ধানমন্ডি পার্টি অফিসে সবাই বসে আছে। ওখানে গিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলব।’ কাদেরের পর আশরাফ বৈঠক থেকে বেরিয়ে এলে সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরে একের পর এক প্রশ্ন ছুড়তে থাকেন। কিন্তু এই আওয়ামী লীগ নেতা কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে এগিয়ে যান গাড়ির দিকে। যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলে যান, ‘আজ কিছু বলব না, সময় হলে অন?্য একদিন বলব।’ ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার পর দুঃসময়ে দলের হাল ধরতে এগিয়ে আসা আশরাফ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে আশরাফের ওপর ভরসা রেখে তাকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে আনেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের নেতাকর্মীরা আশরাফকে সহজে পান না বলে অভিযোগের পরও বিএনপির আন্দোলন পেরিয়ে তার নির্বাচন করার দক্ষতার ওপর ভরসা রেখে যান বঙ্গবন্ধুকন্যা। তবে গত বছর মন্ত্রিসভায় আশরাফকে আকস্মিকভাবে দপ্তর ছাড়া করা হলে সেই ভরসায় চিড় ধরার ইঙ্গিত মেলে। অবশ্য সপ্তাহের ব্যবধানে ফের তাকে মন্ত্রিসভায় আনেন শেখ হাসিনা। অন্যদিকে পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বিরূপ সময়ে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী ওবায়দুল কাদের ডাকসুতে সংগঠনের হয়ে ভিপি প্রার্থী হয়েছিলেন। ছাত্রজীবন শেষে তিনি দৈনিক বাংলার বাণীতে কাজ করতেন। আওয়ামী লীগের গত কাউন্সিলে সভাপতিম-লীতে আসার আগে তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদেও ছিলেন। ২০০৮ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার থাকাকালে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে তার সমালোচনা হয় সে সময়। বিগত মহাজোট সরকারের (২০০৯-১৪) প্রথম ভাগে মন্ত্রিসভায় স্থান না পেলেও শেষ দিকে এসে কাদেরকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে বসান প্রধানমন্ত্রী। সড়ক দেখভালের জন?্য ছুটোছুটি করে শুরু থেকেই আলোচনায় আসেন নোয়াখালীর সাংসদ কাদের। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করলে সড়কের দায়িত্ব তার হাতেই রাখেন শেখ হাসিনা।