উপার্জন হতে হবে স্বচ্ছ

10

ধর্ম ডেস্ক:
ধন-সম্পদ আল্লাহর বিশেষ দান। যাকে ইচ্ছা আল্লাহ এই নেয়ামত দান করেন। অনেকে শত চেষ্টা করেও ধনসম্পদের মালিক হতে পারে না, আবার অনেকেই অল্প চেষ্টায় বা বিনা চেষ্টায় বিশাল সম্পদের মালিক হয়ে যায়। এই সম্পদ মুমিনের জন্য একটি পরীক্ষা। মুমিনের সম্পদ যত ইচ্ছা হতে পারে, তবে তাতে অবৈধ কোনো কিছু থাকা যাবে না। হাদিসে বলা হয়েছে, হারাম সম্পদকে আগুনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যে অবৈধ সম্পদ পেটে ভরল সে যেন আগুন ঢোকাল। কোরানের স্পষ্ট নির্দেশ, ‘তোমরা পরস্পর একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করো না এবং এই উদ্দেশ্যে বিচারকের কাছে সে সম্পর্কে মিথ্যা মামলা রুজু করো না যে, মানুষের সম্পদ থেকে কোনো অংশ জেনে-শুনে গ্রাস করার গুনাহে লিপ্ত হবে।’ প্রত্যেক ধর্মের মূল শিক্ষা হলো, উপার্জন হতে হবে নৈতিক পদ্ধতিতে। চুরি, ডাকাতি, ধোঁকা-প্রতারণা এ জাতীয় অপরাধমূলক কর্ম প্রায় ধর্মেই অগ্রহণযোগ্য। ইসলাম এক্ষেত্রে একটু বেশিই কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বিশাল সম্পদের মধ্যে ছিটেফোঁটা অবৈধ অংশ থাকলেও ইসলামে তা গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামের যে সম্পদনীতির ব্যাখ্যা রয়েছে তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কাউকে ঠকানো যাবে না, প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ কখনো বৈধতা পাবে না। এমনকি এর ভয়াবহতা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এটা হলো বান্দার হক। যতক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ক্ষমা না করবেন ততক্ষণ এটা আল্লাহও ক্ষমা করবেন না। হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং হালাল উপার্জন করার জন্য কোরান-হাদিসে বিশেষভাবে তাগিদ দেয়া হয়েছে। হাদিসে আছে, হারাম খাবার গ্রহণকারীর দোয়া আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয় না। রাসুল (সা.) শপথ করে বলেছেন, যে কোনো হারাম বস্তু উদরস্থ করে চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার কোনো ইবাদত কবুল হয় না। অনৈতিকভাবে কেউ কোনো উপার্জন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পাওনা বুঝিয়ে দেয়া বা তার কাছ থেকে ক্ষমাপ্রাপ্তি ছাড়া তার ইবাদত কবুল হবে না। অনেকে সারাজীবন অনৈতিকভাবে উপার্জনের পর শেষ বয়সে অনেক ধার্মিক হয়ে যান। বাহ্যত এটা ভালো। তবে তার বিগত দিনের উপার্জন হারামমুক্ত করতে হবে। হারাম উপার্জনের অর্থ দিয়ে চলা জীবন কখনো স্রষ্টার সান্নিধ্য পাবে না। এ জন্য সবাইকে নিজের সম্পদ হারামমুক্ত করার ব্যাপারে যত্নশীল হতে হবে।