উত্তপ্ত দার্জিলিং : পুলিশ-আন্দোলনকারী সংঘর্ষ : নিহত ২

272

বিশ্ব ডেস্ক: অশান্ত দার্জিলিংয়ে গত শুক্রবার রাতে গুলিতে এক যুবকের মৃত্যু নিয়ে আজ অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি এ জনপদ। ওই যুবকের রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া না গেলেও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ও জিএনএলএফ পরস্পর দাবি করেছে, মৃত যুবক তাসি ভুটিয়া তাদের দলের সমর্থক।  শুক্রবার রাতে ওষুধ কিনতে গেলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন যুবকটি। আজ সকালে তাসি ভুটিয়ার মরদেহ নিয়ে মিছিল করে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। পাশাপাশি জিএনএলএফও মিছিল করে। ফলে সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের এই পাহাড়ি জেলা শহর দার্জিলিং। এদিকে বিক্ষুব্ধ মোর্চা ও জিএনএলএফ সমর্থকেরা আজ দার্জিলিংয়ের সোনাদা থানায় ভাঙচুর চালিয়ে থানায় অগ্নিসংযোগ করে। তারা শহরের চকবাজারের একটি ট্রাফিক পুলিশের বুথও জ্বালিয়ে দেয়। হামলা চালায় পুলিশের গাড়িতে। অগ্নিসংযোগ করে দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী রেলস্টেশন সোনাদায়ও। বিক্ষুব্ধ মোর্চার সমর্থকেরা খাদ্য দপ্তরের অফিস ভাঙচুর করেন। ডিএসপির শহর অফিসও ভাঙচুর করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে জনমুক্তি মোর্চা ও জিএনএলএফ সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এ সংঘর্ষে চকবাজারে একজনের মৃত্যু হয়। সারা দিন মোর্চার সমর্থকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। পুলিশও পাল্টা লাঠিপেটা এবং টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটায়। জিএনএলএফ নেতা নীরজ জিম্বা বলেছেন, তাসি ভুটিয়া বাজারে একটি ওষুধ আনতে গেলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। জনমুক্তি মোর্চার ডাকে দার্জিলিংয়ের অনির্দিষ্টকালের বন্ধ (হরতাল) গতকাল শনিবার ২৭ দিনে পড়েছে। গত ১২ জুন থেকে শুরু হয় এই বন্ধ। পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যালয়গুলোতে বাংলা ভাষাকে আবশ্যিক ঘোষণা করার প্রতিবাদে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা এই অনির্দিষ্টকালের বন্ধের ডাক দেয়। সেই আন্দোলন এখন পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যান্ড গড়ার আন্দোলনে পরিণত হয়।