ঈদগাহ থেকেই একাদশ জাতীয় নির্বাচনি প্রচারণা শুরু!

247

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ঈদুল ফিতরের দিন থেকে শুরু হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনি প্রচারণা। এদিন ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়েই স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে কোলাকুলি করার মধ্যদিয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য ভোট চাইবেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলীয়ভাবে তালিকা চূড়ান্ত না হলেও জনসংযোগ আগে থেকেই শুরু করবেন তারা। এক্ষেত্রে ঈদুল ফিতরের নামাজের পরের সময়টিকেই শুভ মনে করা হচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, প্রতিবাবের মতো এবারও তিনি চট্টগ্রামে ঈদ করবেন। নিজের বাড়ির ঈদগাহেই নামাজ পড়বেন। তিনি বলেন, ‘আমার নির্বাচনি এলাকা যেখানেই হোক স্থানীয় মানুষদের সঙ্গেই ঈদ করব।’
দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের চট্টগ্রামে ঈদ করার সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে ঈদের দিন বিকালে ঢাকায় ফিরে দলীয় চেয়ারপারসনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন। ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু চুয়াডাঙ্গায় ঈদ করবেন। জেলার সদরই তার নির্বাচনি আসন। তিনি বলেন, ‘এবার নির্বাচনকে সামনে রেখেই ঈদগাহে যাব। সবার সঙ্গে কথা বলব।’
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স প্রতিবার রোজার ঈদ করেন ঢাকায়, কোরবানির ঈদ করবেন গ্রামের বাড়িতে। এবার তিনি রোজার ঈদ করছেন গ্রামের বাড়িতে। তার নির্বাচনি এলাকা ময়মনসিংহ। এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘এবার কোরবানির ঈদে দেশের বাইরে থাকতে পারি, এ কারণে রোজার ঈদ বাড়িতে করব। আমরা রাজনীতি করি। জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ সার্ক্ষণিক থাকা উচিত। সুখে-দুখে জনগণ আমাদের পাশে চান। তারাও অনুভব করতে পারেন, নেতা আছে। শুধু ঈদেই না, সব সময়ই তাদের পাশে থাকা উচিত।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ জানান, তিনি ঈদ করবেন গ্রামের বাড়িতেই। তার নির্বাচনি এলাকা ফরিদপুর-২। তিনি আরও বলেন, ‘রোজার কয়েকদিন বাড়িতেই ছিলাম। ২৩ জুনের পর আবার যাবো। মানুষও চান তাদের পাশে থাকি, বিশেষ করে ঈদের সময়।’ কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল লতিফ জনি বলেন, ‘ঈদ করব ঢাকাতেই।’ এই নেতার নির্বাচনি এলাকা ফেনী-৩ (দাগনভুঁইয়া-সোনাগাজি)।
এদিকে, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঢাকাতেই ঈদ করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদের সময় দেশের বাইরে থাকতে পারেন বলে সম্ভাবনা আছে। বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, ঈদের দিন খালেদা জিয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান থাকলে অনুষ্ঠানের পরই গ্রামের বাড়ি বা নির্বাচনি এলাকায় যেতে পারেন বিএনপির অনেক নেতা।
জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ‘তার নির্বাচনি এলাকা লালমনিরহাট-৩। রমজানে একদিন গ্রামে ছিলাম। ঈদ ঢাকায় করবো। তবে রমজানের পর আবারও গ্রামে যাবো।’ বড় ভাই পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সম্পর্কে জি.এম. কাদের জানান, তিনি ঢাকায় ঈদ করবেন। মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার ঢাকাতেই ঈদ করার সম্ভাবনার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ঈদ ঢাকা ও বাড়িতে করার সম্ভাবনা এখনও দুটোই রয়েছে।’
জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদের নির্বাচনি এলাকা ফেনী হলেও সেখানে ঈদ করছেন না বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বাধ্যক্যের কারণে নির্বাচনে প্রার্থীতার সম্ভাবনাও ক্ষীণ তার। এছাড়া দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান সিলেটের একটি আসন থেকে প্রার্থী হলেও ঢাকাতেই ঈদ করবেন। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থেকে রাজনীতি করার কারণে নির্বাচনি এলাকাতে নাও যেতে পারেন। সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান রাজশাহীতে ঈদ করতে পারেন। নায়েবে আমির আনম শামসুল ইসলাম চট্টগ্রামেই ঈদ পালন করবেন। তিনি স্থানীয় ঈদগাহেই নামাজ আদায় করবেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। খুলনায় ঈদের নামাজ পড়তে পারেন নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার। সহকারী সেক্রেটারি  জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ আত্মগোপনে থাকতে পারেন। তবে সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাদের কুমিল্লায় ঈদ করবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ঢাকা মহানগর আমির দক্ষিণ নুরুল ইসলাম বুলবুল তার নির্বাচনি এলাকাতেই ঈদ করতে পারেন।