ইসিকে আস্থা অর্জন করতে হবে

223

নির্বাচন কমিশন একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করতে যাচ্ছে। আইন সংস্কার ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনী কর্মকান্ড শুরু করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়া জুলাইয়ে শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকা হাল নাগাদের কাজ। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও এনজিওগুলোর সঙ্গে সংলাপ জুলাইয়ে শুরু হয়ে নভেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। পাশাপাশি ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ এবং নতুন দলের নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন কর্মকর্তারা। এবারের নির্বাচনে ‘অটোসিল’ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে ইসি। ইসি সূত্র বলছে, ২০১৮ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। ডিসেম্বরের শেষ অথবা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোট গ্রহণ হতে পারে। সে পরিকল্পনা নিয়েই ইসি কাজ করছে। প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ইসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ এগিয়ে নিতে এরই মধ্যে চার নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে পৃথক চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা আশা করব নির্বাচন কমিশন কথা নয়, কাজের মাধ্যমে তাদের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটাবে এবং সবার আস্থা অর্জনে সক্ষমতা পরিচয় দেবে। দেশে বিদ্যমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অর্থবহ করে তুলতে নির্বাচন কমিশনের আওতায় অনুষ্ঠিতব্য সব নির্বাচন সবার অংশগ্রহণে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে আমরা এমনটিই দেখতে চাই। এ নির্বাচন কমিশন সকলের আস্থা অর্জনকে তারা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেবেন আমরা এমনটিই দেখতে চাই। বিগত নির্বাচন কমিশনের যেসব ব্যর্থতা তাদের সুনামের জন্য অন্তরায় সৃষ্টি করেছে তা এড়াতে এই নির্বাচন কমিশনকে তৎপর হতে হবে। সরকারি দলের আজ্ঞাবহ – এমন দুর্নাম ঘুচাতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। সরকারকেও বুঝতে হবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা সৃষ্টি হবে না। দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ সহযোগিতার প্রয়োজন অপরিহার্য।