ইসলামে শান্তির পথ

214

ধর্ম ডেস্ক: পৃথিবীতে সবাই চায় শান্তি। একটু সুখে-শান্তিতে জীবন কাটানোর আকুলতা প্রায় সবার। কিন্তু সবাই চাইলেও শান্তি পান না। এর কারণ হলো ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়ার প্রতি আমরা প্রত্যাশার পারত এত বিস্তৃত করে ফেলি যে, শান্তি নামক অলীক বস্তুটির আর দেখা মেলে না। পার্থিব জীবনে শান্তি কীভাবে পাওয়া যায় এর ব্যবস্থাপত্র সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি বলেছেন, ‘পার্থিব ধন-সম্পদে যারা তোমাদের চেয়ে নিচে, তাদের প্রতি তাকাও। যারা তোমাদের উপরে, তাদের প্রতি তাকিও না। তাহলে তোমাদের অন্তরে আল্লাহর মহত্ত্ব ও গুরুত্ব কমবে না।’ এই হাদিসে অন্তরকে দুনিয়ার মোহ থেকে মুক্ত করতে আহ্বান করা হয়েছে। ইসলাম মানুষকে অল্পে তুষ্ট থাকার কথা বলেছে। এ গুণ অর্জনে মানুষ পায় সম্পদের মোহ থেকে মুক্তি। কেউ যখন এই গুণে, এই চরিত্রে উৎকর্ষ লাভ করে, তখন দুনিয়া লুটোপুটি খায় তার পদতলে। তবুও সে দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ বোধ করে না, সম্পদের প্রতি তার মহব্বত থাকে না অথচ এ মানুষই যখন সম্পদের নেশায় অন্ধ হয়ে যায়, তার মন তখন সারাক্ষণ অস্থির থাকে, কী পেলাম আর কী পেলাম না এই নিয়ে। হাদিসে কুদসিতে আছে, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘যদি কোনো আদম সন্তানকে সোনার একটি উপত্যকা দান করা হয়, তাহলে সে আরেকটি আশা করবে। দ্বিতীয়টিও যদি পেয়ে যায়, তাহলে কামনা করে আরেকটি উপত্যকার’। এরপর হাদিসে বলা হয়েছে, ‘মাটি ছাড়া অন্য কিছু আদম সন্তানের পেট ভরতে পারবে না।’ যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের হƒদয়ে অল্পে তুষ্টির মানসিকতা না আসবে এবং আল্লাহর শোকর আদায় করতে অভ্যস্ত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সুখ-শান্তির ঠিকানা খুঁজে পাবে না। চাই সে সুখের সন্ধানে যত অর্থই বিলাতে থাকুক না কেন। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘সৌন্দর্য ও প্রাচুর্যে তোমার চেয়েও শ্রেষ্ঠ এমন ব্যক্তির প্রতি যদি তোমাদের কারো নজর পড়ে, তাহলে সে যেন তার চেয়ে অসহায় (কম সুন্দর, কম ধনী) ব্যক্তির প্রতি তাকায়।’ রাসুল (সা.) সাহাবায়ে কেরামের হƒদয়ে এ কথা একেবারে বদ্ধমূল করে দিয়েছেন যে, দুনিয়ার কোনো তাৎপর্য নেই, মূল্য নেই। দুনিয়া এমন কিছু নয়, যার জন্য মানুষ দিন-রাত বেহুঁশ থাকবে। দুনিয়ার পেছনে দৌড়ালে কখনো অন্তরে শান্তি মিলবে না। অন্তরের শান্তি চাইলে ফিরতে হবে কোরান-হাদিসের নির্দেশনার দিকে।