ইসলামে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া

469

ধর্ম ডেস্ক: ক্ষণস্থায়ী এ পৃথিবী থেকে প্রত্যেক প্রাণীকে আল্লাহতায়ালার দেয়া নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর তার কাছে ফিরে যাওয়াই হলো মৃত্যু। মৃত্যুর অনিবার্যতা সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ মৃত্যু চির সত্য বিষয়। মৃত্যুকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আল্লাহতায়ালা মানুষকে এই পৃথিবীতে তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। মানুষ পৃথিবীতে যতদিন বেঁচে থাকে ততদিনই তার আমল ও ইবাদত-বন্দেগি করার সময়। মৃত্যুবরণ করার সঙ্গে সঙ্গে তার আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তাই পরকালে শান্তিময় জীবন লাভ করতে হলে অবশ্যই তাকে মৃত্যুর আগে ভালো আমল করে যেতে হবে। আমাদের সমাজের লোকজন সাধারণত তাদের পরলোকগত পিতা-মাতাসহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের পক্ষ থেকে অনেক ধরনের আমল করে থাকে। তারা চায় তাদের স্বজনরা পরকালে শান্তিতে থাকুক। এভাবে পরকালবাসী আত্মীয়স্বজনের জন্য দোয়া করার কথা কোরান-হাদিসেও উল্লেখ রয়েছে। মৃতের রুহের মাগফিরাতের জন্য দিন-তারিখ নির্দিষ্ট না করে বছরের যে কোনো সময় সুযোগ ও সামর্থ্য অনুযায়ী দান সদকা ও নফল ইবাদত ইত্যাদির মাধ্যমে সওয়াব পৌঁছানো যায়। হাদিসের বর্ণনা মতে, মৃত ব্যক্তি সবসময় অপেক্ষায় থাকে তার কোনো সন্তান বা আত্মীয়স্বজন তার জন্য কোনো সওয়াব পাঠায় কি না। তাই যখন সম্ভব হয় তখনই কোনো আমলের মাধ্যমে তার সওয়াব করা উচিত। কোরান-হাদিসের আলোকে সওয়াব রেসানি করলে ও ইস্তেগফার করলে মৃত ব্যক্তির ফায়দা হয় এবং গুনাহ মাফ হয়।
এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হচ্ছে, হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কবরে মৃত ব্যক্তিগণ এমনভাবে অপরের মুখাপেক্ষী হয়, যেমন পানিতে ডুবতে থাকা ব্যক্তি হয়ে থাকে। তারা পিতা-মাতা, ভাই ও অন্য লোকদের দোয়া লাভের জন্য অপেক্ষার প্রহর গোনে। তাদের কাছে যখন দুনিয়ার কারো দোয়া পৌঁছে, তখন সমস্ত দুনিয়াতে যা কিছু আছে তার তুলনায় সে দোয়া হয় তাদের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়। নিঃসন্দেহে আল্লাহতায়ালা পৃথিবীর মানুষের দোয়া দ্বারা কবরবাসীকে পাহাড় সমান পুণ্য দান করেন। মৃতদের জন্য জীবিতদের উপঢৌকন হচ্ছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।(-মিশকাত)। আল্লাহতায়ালা আমাদের মৃত বাবা-মা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের জন্য বেশি বেশি দোয়া করার তওফিক দান করুন।