ইসলামে ভ্রমণের তাগিদ

337

ধর্ম ডেস্ক: ভ্রমণ বা ঘোরাঘুরি অনেকের কাছে প্রিয়। অনেকে শখের বশবর্তী হয়ে ভ্রমণ করেন। শিল্প হিসেবে পর্যটন সারা বিশ্বেই স্বীকৃত। আমাদের দেশেও বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় জমে। মানুষ যেহেতু কোনো যন্ত্র নয় এজন্য মাঝে মধ্যে নিজেকে সতেজ করার জন্য ভ্রমণে বের হয়। এতে সতেজতা আসে শরীর-মনে; নতুন উদ্যমে কাজ করার প্রেরণা সৃষ্টি হয়। এজন্য সময়-সুযোগ পেলেই সবার ভ্রমণ জরুরি। আর এই ভ্রমণের শুধু পার্থিব উপকারিতাই নয়; এর ধর্মীয় গুরুত্বও রয়েছে। নবী-রাসুল থেকে শুরু করে আলেম-ওলামা সবাই দীনের প্রয়োজনে দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। এজন্য ইসলামে সফরের জন্য আলাদা কিছু বিধানও প্রণয়ন হয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে অনেক কিছুই ভ্রমণের অবস্থায় শিথিল। যেমন শরিয়ত নির্ধারিত ৪৮ মাইল সফর করলে নামাজ পড়তে হয় অর্ধেক; রোজা ভাঙার অনুমতি আছে। এ ধরনের আরো অনেক সুবিধা রয়েছে ভ্রমণকারীর জন্য। এর দ্বারাই প্রমাণ করে ইসলাম ভ্রমণকে উৎসাহিত করেছে। কোরানে কারিমে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘তোমরা জমিনে বিচরণ (ভ্রমণ) কর।’ মানুষ ঘরে বসে থাকলে, জগতে বিচরণ না করলে পৃথিবী সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবে না। পৃথিবীর অনেক কিছুই তার কাছে রয়ে যাবে অনাবিষ্কৃত। থমকে যাবে পৃথিবীর উৎপাদনশীলতা। জ্ঞানের ভা-ারেও সমৃদ্ধি ঘটবে না। তাছাড়া সফর বা ভ্রমণ ছাড়া শাশ্বত ইসলামের বিস্তার ঘটানো কখনো সম্ভব নয়। কোরান-হাদিসে ভ্রমণের বেশ কিছু নীতিমালা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন ভ্রমণে বের হলে চেষ্টা করতে হবে একাধিক লোক একসঙ্গে বের হওয়ার। ভ্রমণকারী তিনের অধিক হলে একজনকে আমির বানানোর কথা বলা হয়েছে। ভ্রমণে বের হওয়ার সময় সুনির্দিষ্ট দোয়ার কথা হাদিসে উল্লেখ আছে। তাছাড়া যানবাহনে চড়া এবং নামার সময়ও আলাদা আলাদা দোয়া আছে। দূরের সফর হলে নামাজ কসর তথা সংক্ষিপ্ত পড়তে হবে। ভ্রমণ অবস্থায়ও যেন আল্লাহর কোনো নাফরমানি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে। জ্ঞানার্জন, ব্যবসায়িক প্রয়োজন, দীনের দাওয়াত, হজ-এ ধরনের পুণ্যময় উদ্দেশে সফর হলে এর জন্য বিশেষ সওয়াব বরাদ্দ রয়েছে। মুসাফির যতদিন সফর অবস্থায় থাকবে ততদিন তাকে সওয়াব দেয়া হবে। অন্যদিকে মুসাফিরের দোয়া আল্লাহ দ্রুত কবুল করেন।