ইসলামে ফেরেশতায় বিশ্বাস

185

ধর্ম ডেস্ক: ফেরেশতাদের প্রতি ইমান বা বিশ্বাস স্থাপনের অর্থ হলো, ফেরেশতাদের অস্তিত্ব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা। তারাও আল্লাহ তায়ালার এক প্রকার সৃষ্টি, আল্লাহ তাদেরকে যা আদেশ করেন অবাধ্য না হয়ে তারা সঙ্গে সঙ্গে তা পালন করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, বরং ফেরেশতারা তো আল্লাহর সম্মানিত বান্দা। তারা আগে বেড়ে কথা বলতে পারে না এবং তারা তাঁর আদেশেই কাজ করে। (সূরা আম্বিয়া : ২৬-২৭)। ফেরেশতারা অদৃশ্য জগতের বাসিন্দা। আল্লাহ তাদেরকে নূর দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাদেরকে আল্লাহর আদেশের প্রতি পূর্ণাঙ্গ আনুগত্যের যোগ্যতা এবং তাঁর আদেশ বাস্তবায়নের সামর্থ্য দিয়েছেন। মানুষের নানা আকৃতিতে আত্মপ্রকাশে তারা সক্ষম। বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে মানুষের সঙ্গে তাদের কোনো মিল নেই। তারা পানাহার করেন না, ঘুমান না, তাদের বিবাহের প্রয়োজন পড়ে না। যৌন চাহিদা থেকে তারা মুক্ত, এমনকি যাবতীয় পাপাচার থেকেও মুক্ত। ফেরেশতাদের প্রতি ইমান পূর্ণ হওয়ার জন্য যে বিষয়গুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে তা হলো ১.  আল্লাহ তাদের যেসব গুণের বর্ণনা দিয়েছেন সে অনুসারে তাদের অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন। ২. কোরান ও হাদিস দ্বারা তাদের যেসব নাম আমরা জেনেছি, সেগুলো বিশ্বাস করা। যেমন জিবরাইল, ইসরাফিল, মিকাইল, আজরাইল, মালিক, মুনকার, নাকির প্রমুখ। এমনকি যাদের নাম আমাদের জানা নেই তাদের প্রতিও বিশ্বাস করা। ৩. যে ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্যের কথা কোরান ও হাদিসে আমরা জেনেছি, তার প্রতি বিশ্বাস পোষণ করা। যেমন, জিবরাইল (আ.) এর বৈশিষ্ট্য হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে তার আসল আকৃতিতে দেখেছেন। তিনি তার ছয়শত ডানায় দিগন্ত আচ্ছাদিত করেছিলেন। আরশ বহনকারী ফেরেশতার বৈশিষ্ট্য হলো, তার এক কান থেকে অপর কানের দূরত্ব সাতশত বছরের পথ। ৪. তাদের যে দায়িত্ব সম্পর্কে আমরা জেনেছি তা বিশ্বাস করা। যেমন তারা বিরামহীন ও ক্লান্তিহীনভাবে দিন-রাত আল্লাহর তসবি পাঠে মগ্ন থাকেন। কোনো প্রকার অবসাদ তাদের স্পর্শ করে না। তাদের মধ্য রয়েছেন আরশ বহনকারী, জান্নাতের প্রহরী এবং জাহান্নামের রক্ষী। আরো আছেন একঝাঁক ভ্রাম্যমাণ পবিত্র ফেরেশতা, যারা আল্লাহর নাম উচ্চারিত স্থানসমূহ অনুসরণ করেন। এছাড়া আরো অনেক ফেরেশতা রয়েছেন, যাদের আমল সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। আল্লাহর সব ফেরেশতার প্রতিই আমাদের ইমান আনতে হবে।