ইসলামে দেশপ্রেম ও স্বাধীনতা

15

ধর্ম ডেস্ক: স্বাধীনতা মানুষের প্রকৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষ যেমন স্বাধীনভাবে জন্মগ্রহণ করে তেমনি বেঁচে থাকতে চায় স্বাধীনতার স্বাদ আস্বাদন করে। মানুষের স্বাধীনচেতা প্রকৃতিতে বাধা পড়লেই বিঘিœত হয় তার সহজাত জীবনধারা। এজন্য ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার প্রেরণা যুগিয়েছে। প্রকৃতির ধর্ম ইসলাম স্বাধীনতা ও দেশপ্রেমের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে। ইসলামে দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধকে সবকছিুর ঊর্ধ্বে স্থান দেয়ার কথা বলা হয়েছে। নবীর আদর্শে গড়া সাহাবায়ে কেরামও স্বদেশকে খুব ভালোবাসতেন। হিজরতের পর মদিনায় হজরত আবু বকর (রা.) ও হজরত বেলাল (রা.) জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তাদের মনে-প্রাণে স্বদেশ মক্কার স্মৃতিচিহ্ন জেগে উঠেছিল। তারা জš§ভূমি মক্কার দৃশ্যাবলি স্মরণ করে কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন। এমতাবস্থায় নবী করিম (সা.) সাহাবিদের মনের এ দূরবস্থা দেখে প্রাণভরে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ, আমরা মক্কাকে যেমন ভালোবাসি, তেমনি তার চেয়েও বেশি মদিনার ভালোবাসা আমাদের অন্তরে দান করুন’। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌম রক্ষায় রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন আহ্বান করেছেন সাহাবায়ে কেরাম সর্বোতভাবে এ ডাকে সাড়া দিয়েছেন। তারা জানতেন, নিজেদের বিশ্বাস, আদর্শ ও ধর্মমতের প্রতিষ্ঠার জন্য একটি স্বাধীন ভূখ-ের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য ইসলাম প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তারা যেমন আন্তরিক ছিলেন তেমনি নিবেদিত ছিলেন দেশপ্রেম ও দেশের স্বাধীনতা সুরক্ষায়। ইসলামের আলোকে দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধ মানুষকে স্বদেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌম রক্ষায় দেশপ্রেমিক নাগরিক নিজের প্রাণ বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। যুগে যুগে দেশপ্রেমিক নাগরিকেরা নিজের সর্বস্ব দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন ও সুরক্ষার আন্দোলন করে গেছেন। বিশেষত যাদের ধর্ম ইসলাম, বিশ্বাসে যারা শেষ নবীর অনুসারী তাদের কাছে দেশ ও জাতির জন্য আত্মত্যাগ ও বিসর্জনের দৃষ্টান্ত ইতিহাসের পাতায় ভরপুর। নিজ দেশের ওপর আঘাত এলে আদর্শ ও বিশ্বাসের ধারকেরাই সর্বপ্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। ইসলামের প্রেরণা যাদের ভেতরে কাজ করে তারা দেশ ও জাতির যে কোনো দুর্দিনে সর্বাত্মক বিসর্জনের মানসিকতা পোষণ করেন। দেশ ও জাতির পক্ষে কাজ করাই তাদের জীবনের ব্রত। স্বদেশ রক্ষায়, দেশের মানুষের জন্য কাজ করলে এর প্রতিদানের ঘোষণা রয়েছে স্রষ্টার পক্ষ থেকে।