ইসলামে কন্যা জায়া জননী

78

ধর্ম ডেস্ক: ইসলাম পূর্ব যুগে নারী জাতির কোনো মান-সম্মান ছিল না। তাদের পশুর মতো হাটে-বাজারে বেচা-কেনা করা হতো। কন্যার জšে§ পিতার মুখ কালো হয়ে যেত। তখন কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। এমন সময় ইসলাম এসে নারী জাতিকে কন্যা জায়া জননী হিসেবে অনেক সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে। মানবতার মুক্তির দূত, নারী মুক্তির দিশারী হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তিকে কন্যা সন্তান প্রদান করার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে, সে যদি তাদের প্রতি সুন্দর আচরণ করে, তাদের সঠিকভাবে লালন-পালন করে, তবে তারা জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য পর্দাস্বরূপ হয়ে যাবে (বুখারি, মুসলিম)। কারো যদি তিনজন কন্যা সন্তান থাকে বা তিনজন বোন থাকে, অথবা দুজন কন্যা বা দুজন বোন থাকে এবং সে তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে, তাদের প্রতি করুণা ও সদ্ব্যবহার করে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস-২২৮৬৬)। সমগ্র পৃথিবীটাই সম্পদে পরিপূর্ণ, এর মধ্যে কল্যাণকর ও উত্তম সম্পদ হলো চরিত্রবান নেককার স্ত্রী (সহীহ মুসলিম)। তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম (সহীহ মুসলিম)। মুসলমান নারী যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমজান মাসের রোজা পালন করে, নিজের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে, তবে তাকে বলা হবে, জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে তুমি ভেতরে প্রবেশ কর (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস-১৫৭৩)। এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহকে (সা.) প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসুল! মানুষের মধ্যে কে আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার সর্বাধিক অধিকার রাখে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার পিতা। কন্যা, বোন, স্ত্রী বা মা যাই হোকনা কেন, ইসলামে নারীর মর্যাদা যে কতখানি উপরের হাদিসগুলো দ্বারা নিশ্চয়ই তা স্পষ্ট। ইসলাম নারীকে যেমন উচ্চ মর্যাদা দিয়েছে তেমনি কিছু দায়িত্বও দিয়েছে। অন্যতম একটি প্রধান দায়িত্ব হলো, যথাযথ পর্দার মাধ্যমে নিজের সম্মান রক্ষা করা। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরানে বলেন, তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে, মূর্খতা যুগের অনুরূপ (বেপর্দা হয়ে) নিজেদের প্রদর্শন করবে না, নামাজ কায়েম করবে, জাকাত আদায় করবে, আল্লাহ এবং তার রাসুলের আনুগত্য করবে (সূরা আহযাব, আয়াত-৩৩)।