ইসলামে অপচয় গ্রহণযোগ্য নয়

283

ধর্ম ডেস্ক: বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ হলো-‘যে খায় খুঁটে, ভাত তার পাতে যায় হেঁটে।’ অন্যদিকে মানবতার ধর্ম ইসলাম বলে, ‘অপচয়কারী শয়তানের ভাই।’ আমরা গরিব দেশের গরিব মানুষ বলে আমাদের অপচয় করার তেমন সুযোগ নেই। কিন্তু অনেকের কাছে ‘অপচয়’ করার বিষয়টি অনেকটাই ‘মানসিক।’ কেননা অপচয়ের ভেতরে নিজের বিলাসী সামর্থ্য দেখানোর মনোভাব ও আভিজাত্য প্রকাশ করার প্রবণতা থাকে সবচেয়ে বেশি। পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে আমাদের আগামী বংশধরদের কাছে বিশ্বের সব মানুষেরই কিছু না কিছু দায়ভার রয়েছে। অতএব খাদ্যের অপচয় রোধ করে সেই দায়ভার অন্তত কিছুটা পালন করা যেতে পারে বলে আমরা মনে করি। পৃথিবীতে যাদের অঢেল সম্পদ রয়েছে তারা কি কখনো ভেবে-চিন্তে খাদ্য গ্রহণ করেন? অপচয় অর্থাৎ প্রয়োজনের বেশ কিছু নষ্ট করে ফেলে দেয়ার অভ্যাস এক প্রকারের বিলাসিতা। মানুষের বিপুল পরিমাণে অর্থ-বিত্ত-বৈভব থাকলে এর অপচয় করার ক্ষমতা থাকতে পারে বটে কিন্তু নৈতিক অধিকার নেই। কেন নৈতিক অধিকার নেই? কারণ, অতি সম্প্রতি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১৩০ কোটি টন খাদ্য নষ্ট হয়, যা গোটা বিশ্বের মোট উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। আর এই খাদ্য অপচয়ের কারণে বছরে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৫ হাজার কোটি ডলার-যা আমাদের বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ লাখ কোটি টাকা। অথচ ওই একই সময়ে বিশ্বে প্রতিদিন ১৭ কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটান। প্রতিবেদন মতে, একদিকে প্রতিবছর বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্যের এক-তৃতীয়াংশের অপচয় হচ্ছে, অপরদিকে ১৭ কোটি মানুষ ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। অথচ এই ক্ষুধার্ত মানুষরাই এই অতিভোজী-অপচয়কারীদের বিভিন্ন বিষয়ের জোগান দিচ্ছে! একেই বলে ভাগ্যের পরিহাস! অন্য দেশের কথা বাদ দিয়ে শুধু বাংলাদেশের কথাই ধরা যাক-বাংলাদেশে যে পরিমাণ খাদ্য অপচয় হয়, এর যদি সামান্য নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে অন্তত আমাদের দেশে কঙ্কালসার মানুষদের ভিড় রাস্তাঘাটে কিছুটা কম দেখা যেত। তাই খাদ্যের অপচয়ের বিষয়টি একটু উদারনৈতিক মনোভাব দিয়ে বদলানো উচিত।