ইমানের প্রশ্নে শৈথিল্য নয়

54

ধর্ম ডেস্ক:
মুমিন জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো ইমান। ইমানের বিপরীত কুফর। ইমান সত্য, কুফর মিথ্যা। ইমান আলো, কুফর অন্ধকার। ইমান জীবন, কুফর মৃত্যু। ইমান পূর্ণ কল্যাণ আর কুফর পূর্ণ অকল্যাণ। ইমান সরল পথ, আর কুফর ভ্রষ্টতার রাস্তা। ইমান মুসলমানের কাছে প্রাণের চেয়েও প্রিয় বস্তু। ইমানদার সব কষ্ট সহ্য করতে পারেন, মৃত্যুকে বরণ করে নিতে পারেন, কিন্তু ইমান ছাড়তে পারেন না। ইমানই তার কাছে সবকিছু থেকে বড়। ইমান শুধু মুখে কালেমা পড়ার নাম নয়, ইসলামের সব অপরিহার্য অনুষঙ্গসহ মনেপ্রাণে কবুল করার নাম ইমান। আর এ কারণে মুমিনকে হতে হবে সুদৃঢ়, সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ। অজ্ঞতা-অনুমান আর কল্পনা-কুসংস্কারের কোনো অবকাশ নেই ইমানে। ইমান ওই সত্য সঠিক আকিদাকে স্বীকার করার ও সত্য বলে বিশ্বাস করার নাম, যা আসমানি ওহির দ্বারা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত; যে ওহি পবিত্র কোরান ও সুন্নাহরূপে এখনো সংরক্ষিত আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। ইমান হলো অটল ও দৃঢ় বিশ্বাসের নাম। সংশয় ও দোদুল্যমানতার মিশ্রণও এখানে হতে পারে না। অন্তরের বিশ্বাসের সঙ্গে মুখেও সত্যের সাক্ষ্য দেয়া ইমানের অন্যতম রোকন। আল্লাহর রাসুল (সা.) রবীআ গোত্রের প্রতিনিধি দলকে এক আল্লাহর ওপর ইমান আনার আদেশ করে জিজ্ঞাসা করেছিলেন- তোমরা কি জান ‘এক আল্লাহর ওপর ইমান’ কাকে বলে? তারা বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন।’ রাসুল (সা.) তখন বললেন, ‘এই সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই। মোহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। আর সালাত কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, রমজানের রোজা রাখা ও গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ প্রেরণ করা’ (বুখারি)। ইমান আনার অনিবার্য অর্থ, বান্দা নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করবে। তাঁর প্রতিটি আদেশ শিরোধার্য করবে। কোনো ব্যক্তি বা বিষয়ের প্রতি ইমান তখনই হতে পারে যখন তার ওপর থাকে পূর্ণ আস্থা, অন্তরে তার প্রতি থাকে শ্রদ্ধা।