ইজিবাইকে অতিষ্ঠ মানুষ, অদক্ষ চালকের ছড়াছড়ি!

22

সোহেল রানা ডালিম
চুয়াডাঙ্গা শহরে দিন দিন বেড়েই চলেছে ইজিবাইকের সংখ্যা। তীব্র যানজটের কারণে মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সড়কে অতিরিক্ত ইজিবাইকের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ পথচারীরা। ইজিবাইকের দুর্ঘটনায় পঙ্গু জীবনযাপন করছে, এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। ইজিবাইকের দৌরাত্ম্যের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে বেশ কয়েকবার পৌরসভার মেয়র ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানিয়েছেন শহরবাসী। শহরে ইজিবাইকের কারণে যানজট সৃষ্টি হয় সাধারণত সকালে অফিস-সময়ের ঠিক আগে আর বিকেলের পরপরই। সাধারণ মানুষ বলছেন, শহরে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি সংখ্যক ইজিবাইক চলাচল করছে। শহরে চলাচল করা এসব ইজিবাইকের সংখ্যা বর্তমানে চার হাজারের মতো। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অদক্ষ ইজিবাইকচালকদের কারণেই সড়কে মূলত এ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, ঘটছে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরে ইজিবাইকের যানজট কমাতে পৌরসভা বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এসব ইজিবাইক চালানোর জন্য পৌরসভা থেকে লাইন্সেস-অনুমোদন করতে হয়। তবে শহরের ভেতর যেসব ইজিবাইক দেখা যায়, তার অধিকাংশই অন্য উপজেলা থেকে এসে শহরে ভাড়া খাটে। যার কারণে শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা সমাধানে পৌরসভা থেকে চার উপজেলার ইজিবাইকের রঙে ভিন্নতা আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে করে অন্য উপজেলার ইজিবাইক শহরে প্রবেশ করতে পারবে না। পৌরসভার হিসাব অনুয়ায়ী, শহরে ইজিবাইকের সংখ্যা এক হাজারের মতো। জানা গেছে, ইজিবাইকের কারণে সৃষ্ট যানজট সমস্যা এড়াতে চুয়াডাঙ্গার সাবেক জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন আহমেদ শহরের হাসপাতাল সড়ককে একমুখী সড়ক হিসেবে চালু করলেও তা কিছুদিন মানার পর, এখন আর কোনো চালক মানেন না। ইজিবাইকের কারণে শহরের প্রাণকেন্দ্র বড় বাজার শহীদ হাসান চত্বর, কোর্ট চত্বর এলাকা, একাডেমি বাসস্ট্যান্ড, ফেরিঘাট রোড, হাসপাতাল সড়ক, রেলওয়ে স্টেশন সড়কসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিনিয়ত দেখা যায় যানজট-সমস্যা। যানজট নিরসনে সড়কে ট্রাফিক পুলিশ লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও ইজিবাইকের দৌরাত্ম্যে তাঁরাও ক্লান্ত হয়ে পড়েন, এমন দৃশ্যও চোখে পড়ে।
চুয়াডাঙ্গা ঝিনুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রেমা সরকার জানায়, ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড থেকে তার স্কুলে আসতে সময় লাগে দশ মিনিট। কিন্তু ইজিবাইকের যানজটের কারণে পথে রিকশায় বসে থাকতে হয় ত্রিশ মিনিট।
মিনিবাস চালক মতিয়ার রহমান বলেন, শহরের তিন কিলোমিটার রাস্তা পার হতে অনেক সময়ই ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ইজিবাইকের যানজটের কারণে শহীদ হাসান চত্বর থেকে বাস টার্মিনাল, এ সামান্য পথ আসতে সময় লাগে প্রায় আধা ঘণ্টা।
রাস্তার পাশের কাপড়ের দোকানদার শফি উদ্দিন জানান, ‘ইজিবাইকগুলো সড়কে বেপোরোয়াভাবে চলাচল করছে। চলতিপথে হঠাৎ করেই রাস্তার পাশে সিগনাল বাদেই দাঁড়িয়ে পড়ে এসব ইজিবাইক। অদক্ষ চালকের কারণে ঘটছে বড় বড় দুর্ঘটনা। এসব ইজিবাইকের যানজট কমাতে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।’
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চুয়াডাঙ্গা জেলার সাধারণ সম্পাদক হোসেন জাকির জানান, অদক্ষ ইজিবাইকচালকদের কারণে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দিন দিন ইজিবাইকের সংখ্যা বাড়ার ফলে শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক ইজিবাইক চালালে সড়ক দুর্ঘটনা কম হবে বলে জানান তিনি।
চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় ইজিবাইকের কারণে সৃষ্ট যানজটের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ইজিবাইকের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার চার উপজেলার ইজিবাইকগুলোর রঙে ভিন্নতা আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শহরের প্রধান প্রধান সড়কে ইজিবাইক চলতে পারবে না।
এ বিষয়ে শহরের সাধারণ মানুষের দাবি, আশ্বাস নয়, অচিরেই শহরে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের দৌরাত্ম্য কমিয়ে যানজট নিরসনে ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ। ইজিবাইকের দৌরাত্ম্যে সৃষ্ট যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে যথাযথ নীতিমালার সঠিক প্রয়োগ ঘটাবে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও প্রশাসন, এমনটাই প্রত্যাশা শহরবাসীর।