ইছামতি নদীতে ভাসা লাশ নিয়ে গেল বিএসএফ

56

ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের ইছামতি নদীতে অজ্ঞাতনামা যুবকের (২৭) ভেসে ওঠা একটি লাশ উদ্ধার করে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। লাশটি মহেশপুরের খোসালপুর ও মাইলবাড়িয়া এলাকার ভারতীয় অংশ পাখিউড়া ইছামতি নদীতে ভাসছিল। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাখিউড়া বিএসএফ ক্যাম্পের জওয়ানরা ওই লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যান। তবে লাশটি বাংলাদেশি না ভারতীয় নাগরিকের, তা নিশ্চিত করতে পারেনি ঝিনাইদহের খালিশপুর-৫৮ বিজিবি। এদিকে, মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় কলোনিপাড়া গ্রামের আমির হোসেন (২৭) নামের এক যুবক গত সোমবার থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। যুবক আমির হোসেন ওই গ্রামের বেলাল হোসেন ওরফে কালু মণ্ডলের ছেলে। গ্রামবাসীর ধারণা, ইছামতি নদীতে পাওয়া লাশটি আমির হোসেনের বলে তাঁরা সন্দেহ করছেন।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার খোন্দকার আব্দুল করিম অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন রাতে শ্যামকুড় পূর্বপাড়া গ্রামের ইঁদু শেখের ছেলে মোমিনুর ও সাদেক আলীর ছেলে শাহানুরের নেতৃত্বে একটি চোরাকারবারি দল ভারতে গরু আনতে যায়। ওই দলে আমির হোসেন ছিলেন। ইউপি মেম্বারের ভাষ্যমতে, নিখোঁজ আমির হোসেন তাঁর শ্যালকের ছেলে। সীমান্তে গরু চোরাকারবারি মোমিন ও শাহানুর আমিরকে ফুঁসলিয়ে ভারতে নিয়ে যায় গরুর রাখাল হিসেবে। তাঁরা আমির হোসেন ফিরে আসবে আসবে জানালে, এখন দুজনাই গাঁঢাকা দিয়েছে। সীমান্তের একটি সূত্র জানায়, ভারতে গরু আনতে গিয়ে বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন আমির হোসেন। এরপর তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ নিয়ে শুক্রবার রাতে উদ্ধার হওয়া লাশটি শ্যামকুড় কলোনিপাড়ার আমিরের কি না, তা নিয়ে বিজিবির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো তথ্য দিতে পারেনি।
ঝিনাইদহের খালিশপুর-৫৮ বিজিবির কমান্ডার লে. কর্নেল কামরুল আহসান শনিবার (১১ এপ্রিল) এ প্রতিবেদককে জানান, ইছামতি নদীর ভারতীয় অংশে অজ্ঞাতনামা একটি লাশ ভাসতে দেখে তাঁরা বিএসএফকে খবর দেন। এরপর বিএসএফ লাশটি উদ্ধার করে। তিনি জানান, লাশটি বাংলাদেশি কারো কি না, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই। কেউ অভিযোগও করেনি। মহেশপুরের শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ হক জানান, ‘তাঁর এলাকার আমির হোসেন নামের একটি ছেলে গত ৪-৫ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। শুনেছি লাশটি তাঁরই। কিন্তু এখনো আমরা দায়িত্বশীল সূত্র থেকে নিশ্চেত হতে পারেনি। আমি আমিরের পিতা কালু মণ্ডলকে থানায় জিডি করতে বলেছি।’