ইংল্যান্ডের কাছে হারে কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ

65

খেলাধুলা ডেস্ক:
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে যায় মাশরাফি বাহিনী। এবার স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছেও ১০৬ রানের বড় ব্যবধানে হারল টাইগাররা। টানা দুই হারে বাংলাদেশের উপর চাপ আরও বেড়ে গেল। শেষ চারে যাওয়ার লড়াইয়ে এখন তাদের কঠিন সমীকরণে পড়তে হবে। কারণ অস্ট্রেলিয়া, ভারতের মতো দলের সঙ্গে এখনো বাংলাদেশের খেলা বাকি। যদিও শেষ ছয় ম্যাচে অনেক হিসেবই পাল্টে যেতে পারে। অপরদিকে প্রথম তিন ম্যাচের দুটিতে জিতে ইংল্যান্ড ভালো অবস্থানেই থাকল। বাংলাদেশের কাছে বিশ্বকাপে আগের দুটি হারের প্রতিশোধও যেন ইংলিশরা। বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৩৮৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল ইংলিশরা। এই লক্ষ্য তাড়া করে জিততে বিশ্বকাপে চেজের নতুন ইতিহাসই তৈরি করতে হতো তামিম-সাকিবদের। তাই বাংলাদেশের হার অনেকটা অনুমিতই ছিল। তবে সেই হারটা কত কম ব্যবধানে হয় সেদিকেই লক্ষ্য ছিল সমর্থকদের। বাংলাদেশ অবশ্য সেই দৌড়ে ২৮০ রানের বেশি করতে পারেনি। সাত বল বাকি থাকতেই অলআউট হয়ে যায় তারা। সাকিব আল হাসানের সেঞ্চুরি ছিল এই ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন। বিশ্বকাপে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি আদায় করে নেন তিনি। সাকিব সেঞ্চুরি করেন ৯৫ বলে। যা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ১১৯ বল থেকে ১২টি চার ও একটি ছক্কার মারে ১২১ রান করে আউট হন তিনি। অন্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুশফিকুর রহিম ৪৪, মাহমুদউল্লাহ ২৮, মোসাদ্দেক ২৬ ও তামিম ১৯ রান করেন। ইংলিশ বোলারদের মধ্যে বেন স্টোকস তিনটি এবং মার্ক উড ও জোফরা আর্চার দুটি করে উইকেট নেন। কার্ডিফে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শনিবার বিকেলে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড করেছে ছয় উইকেটে ৩৮৬ রান। জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্ট জুটি ১২৮ রানের দারুণ একটা ওপেনিং জুটি গড়েন। এরপর মাশরাফির বলে মেহেদি হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান বেয়ারস্ট। আউট হওয়ার আগে ৬৫ বল থেকে ১০টি চার ও একটি ছক্কার মারে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর রুটকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটান সাইফুদ্দিন। দলীয় ২০৫ রানে ব্যক্তিগত ২১ রানে ফিরেন জো রুট। তবে জেসন রয়কে ব্যক্তিগত নবম সেঞ্চুরি করা থেকে বিরত থাকতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। শেষ পর্যন্ত দলীয় ২৩৫ রানে আউট হন রয়। এর আগেই ১২১ বল থেকে ১৪টি চার ও পাঁচটি ছক্কার মারে ১৫৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। সেই সুবাদে ইংল্যান্ডকে বড় স্কোরের ভিত্তি নির্মাণ করে দেন এই ইংলিশ ওপেনার। পরবর্তী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে জস বাটলার ৬৪ ও ইয়ন মরগান ৩৫ রান করেন। ৯ বল থেকে ২৭ রান নিয়ে প্লাঙ্কেট ও ৮ বল থেকে ১৮ রান নিয়ে ক্রিস ওয়েকস অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে দুটি করে উইকেট নেন সাইফুদ্দিন ও মেহেদি হাসান মিরাজ। উল্লেখ্য, আগামী ১১ জুন পরবর্তী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।